মাহমুদ হাসান রনি, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি:
চুয়াডাঙ্গা শহরের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে ঢুকে প্রধান শিক্ষিকাকে চড়-থাপ্পড় মারার অভিযোগ উঠেছে এক অভিভাবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিক্ষক সমাজে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। লাঞ্ছনার শিকার প্রধান শিক্ষিকা বিদ্যালয়ে যেতে নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়েছেন। ঘটনার একটি সিসিটিভি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের ফার্মপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার প্রধান শিক্ষিকার নাম কাবেরী করিম।
বিদ্যালয় সূত্র জানায়, ফার্মপাড়া এলাকার বাসিন্দা সামসউর রহমান শুভ বিদ্যালয়ে এসে প্রধান শিক্ষিকার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। একপর্যায়ে অফিসকক্ষে বসে থাকা প্রধান শিক্ষিকাকে আচমকা চড়-থাপ্পড় মারেন। পরে বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক ও উপস্থিত ব্যক্তিরা তাকে নিবৃত্ত করে বাইরে নিয়ে যান।
জানা যায়, অভিযুক্ত সামসউর রহমান শুভ ও মিতালী খাতুন দম্পতির মেয়ে বিসমাহ জান্নাত ঐশ্বর্য (৯) ওই বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়ের সকালের সমাবেশ চলাকালে সহপাঠীর সঙ্গে কথা বলায় প্রধান শিক্ষিকা শিশুটিকে শাসন করেন এবং একটি চড় দেন। বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে শিশুটির বাবা বিদ্যালয়ে এসে প্রধান শিক্ষিকার ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ।
অভিযুক্ত সামসউর রহমান শুভর বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
লাঞ্ছনার শিকার প্রধান শিক্ষিকা কাবেরী করিম বলেন, “আমি শিক্ষার্থীদের আদর করি, আবার প্রয়োজনে শাসনও করি। সেদিনও আলতো করে একটি চড় দিয়েছিলাম। কিন্তু একজন অভিভাবক আমার অফিসকক্ষে ঢুকে গায়ে হাত তুলবেন, তা কখনো ভাবিনি। এখন বিদ্যালয়ে যেতে নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করছি। আবারও হামলার শঙ্কা রয়েছে।”
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা কেদারগঞ্জ আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সোয়াইব হোসেন বলেন, “কোনো অভিভাবকের কাছ থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশিত নয়। শিক্ষকরা যদি এভাবে লাঞ্ছিত হন, তাহলে শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে। আমরা এ ঘটনার নিন্দা জানাই এবং ভুক্তভোগী শিক্ষিকার পাশে আছি।”
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, একজন শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ পেয়ে পুলিশ বিদ্যালয়ে গিয়েছিল। পরে জানা যায়, ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবক প্রধান শিক্ষিকাকেও লাঞ্ছিত করেছেন। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অহীন্দ্র কুমার মণ্ডল বলেন, “বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষক সমাজে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।