মোঃ শাহ আলম, সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
বেতন বৃদ্ধি এবং বিভাগীয় কর্মচারী হিসেবে স্বীকৃতিসহ দুই দফা দাবিতে সিরাজগঞ্জে অবস্থান ধর্মঘট, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বাংলাদেশ শাখা ডাকঘর কর্মচারি ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবার (৭ জুলাই ২০২৬) দুপুরে সিরাজগঞ্জ প্রধান ডাকঘরের সামনে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা দুই শতাধিক পোস্টমাস্টার, পোস্টম্যান ও রানার অংশ নেন। কর্মসূচিতে বক্তারা তাদের দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য, চাকরির অনিশ্চয়তা এবং মানবেতর জীবনযাপনের চিত্র তুলে ধরে দ্রুত দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, দেশের ডাক বিভাগের তৃণমূল পর্যায়ে সরকারি ডাকসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে শাখা ডাকঘর কর্মচারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে ডাকসেবা সচল রাখা, সঞ্চয় কার্যক্রম পরিচালনা, সরকারি বিভিন্ন সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং সাধারণ মানুষের প্রয়োজনীয় ডাকসেবা নিশ্চিত করতে তারা প্রতিদিন দায়িত্ব পালন করলেও সেই তুলনায় তাদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়নি।
বক্তারা অভিযোগ করেন, বর্তমানে শাখা ডাকঘর কর্মচারীদের দৈনিক ভাতা মাত্র ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা, যা মাসিক হিসাবে প্রায় ৪ হাজার টাকার সমান। বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে এই অর্থ দিয়ে একজন কর্মচারীর নিজের জীবনধারণই কঠিন, সেখানে পরিবারের ব্যয়ভার বহন করা প্রায় অসম্ভব। দীর্ঘদিন ধরে তারা একই ধরনের বৈষম্যের শিকার হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
তারা আরও বলেন, শাখা ডাকঘর কর্মচারীরা নিয়মিত সরকারি দায়িত্ব পালন করলেও এখনো বিভাগীয় কর্মচারী হিসেবে স্বীকৃতি পাননি। ফলে চাকরির নিরাপত্তা, আর্থিক সুবিধা এবং অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। বারবার দাবি জানানো হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় বাধ্য হয়ে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের কর্মসূচি ঘোষণা করতে হয়েছে।
বাংলাদেশ শাখা ডাকঘর কর্মচারি ইউনিয়ন, সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি আশরাফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রহমান মাসুদ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশীদ, নাসির উদ্দীন, নিলয় হোসেন, জয়নাল আবেদীন ও ইসহাক আলী।
বক্তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ডাক বিভাগের তৃণমূল পর্যায়ের এই কর্মচারীদের ন্যায্য দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করা হলে একদিকে যেমন তাদের জীবনমানের উন্নয়ন হবে, অন্যদিকে দেশের ডাকসেবাও আরও গতিশীল ও কার্যকর হবে। অন্যথায় কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা আরও বাড়বে এবং ডাকসেবার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। পরে মিছিলটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। জেলা প্রশাসকের পক্ষে স্মারকলিপিটি গ্রহণ করা হয় এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর আশ্বাস দেওয়া হয়।
কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা প্রায় দুই শতাধিক পোস্টমাস্টার, পোস্টম্যান ও রানার উপস্থিত ছিলেন। তারা এক কণ্ঠে ঘোষণা দেন, বেতন বৃদ্ধি এবং বিভাগীয় কর্মচারী হিসেবে স্বীকৃতির দাবিসহ দুই দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন ও ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।
কর্মচারীদের দাবি, তারা দীর্ঘদিন ধরে সীমিত সুযোগ-সুবিধা নিয়ে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাই তাদের ন্যায্য দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে সম্মানজনক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।