সিলেট প্রতিনিধি :
সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাজারো মানুষ। তাদের মধ্যে অনেকেই অর্থাভাবে, চিকিৎসা সংক্রান্ত জটিলতায় কিংবা দিকনির্দেশনার অভাবে পড়েন চরম দুর্ভোগে। এমন অসহায় রোগী ও স্বজনদের পাশে নীরবে মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার সাইফুল ইসলাম।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা এক নারী রোগী বিদ্যা জানান, চিকিৎসা নিতে এসে তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন। ঠিক সেই সময় সাইফুল এগিয়ে এসে তার সমস্যার কথা শোনেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দেন।
তিনি বলেন,“আমি খুব অসহায় অবস্থায় ছিলাম। কোথায় যাবো, কীভাবে চিকিৎসা নেবো বুঝতে পারছিলাম না। তখন এক ছেলে এসে আমাকে ‘মা’ বলে সম্বোধন করে মাথায় হাত রেখে জানতে চাইল আমার সমস্যা কী। পরে সে আমার চিকিৎসার সব ব্যবস্থা করে দেয়। শুধু আমি নই, আমার মতো অসংখ্য গরিব মানুষের পাশে সে দাঁড়িয়েছে।”
জানা গেছে, হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রতিদিন অসংখ্য দরিদ্র রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগিতা করে থাকেন সাইফুল। কখনো চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া, কখনো ওষুধ সংগ্রহে সহায়তা, আবার কখনো নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী আর্থিক সহযোগিতাও করেন তিনি।
এ বিষয়ে কথা হলে সাইফুল ইসলাম বলেন,“আমি খেটে খাওয়া মানুষের সন্তান। কোনো বড়লোক পরিবারের ছেলে নই। মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নিয়েছি। দুঃখ-কষ্টের মধ্য দিয়েই বড় হয়েছি। এই চাকরি করে পরিবার নিয়ে কোনোমতে জীবন চালাই। কিন্তু হাসপাতালে যখন দেখি অনেক অসহায় মানুষ একটি ওষুধ কেনার টাকাও জোগাড় করতে পারেন না, তখন খুব কষ্ট লাগে। তাই যতটুকু পারি তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি।”
তিনি আরও বলেন,“মানুষ মানুষের জন্য। শুধু আমি নই, সমাজের প্রত্যেক বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষের উচিত গরিব ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো।”
হাসপাতালে আগত রোগী ও স্বজনদের ভাষ্যমতে, মানবিক আচরণ, আন্তরিকতা ও নিঃস্বার্থ সহযোগিতার কারণে ইতোমধ্যেই অনেকের কাছে আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন ওয়ার্ড মাস্টার সাইফুল ইসলাম। মানবসেবার এই দৃষ্টান্ত সমাজের অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।