কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি:
খুলনার কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের মাদারবাড়িয়া-রোনবাগ সড়কের নির্মাণকাজে চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে সদ্য পিচঢালাই করা সড়ক খুঁড়ে নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের দাবি, স্থানীয় এক নেতার পক্ষ থেকে চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করায় রাতের অন্ধকারে কয়েকজন ব্যক্তি সড়কের পিচ কোদাল ও সাবল দিয়ে খুঁড়ে ক্ষতিগ্রস্ত করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাত্র দুই দিন আগে সড়কটির প্রায় এক কিলোমিটার অংশে পিচঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়। বাকি অংশের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। এরই মধ্যে রাতের বেলায় দুর্বৃত্তরা সদ্য নির্মিত অংশে হামলা চালিয়ে পিচ খুঁড়ে নষ্ট করে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে কয়েকজনকে কোদাল ও সাবল দিয়ে রাস্তার পিচ খোঁড়ার চেষ্টা করতে দেখা যায়।
ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কাজ তদারককারী হাসান শেখ অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় এক নেতার পক্ষ থেকে তাঁর কাছে লোক পাঠিয়ে চাঁদা দাবি করা হয়। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ক্ষুব্ধ হয়ে সড়কের পিচ নষ্ট করা হয়।
তিনি বলেন, “পিচঢালাইয়ের পর রাস্তা পুরোপুরি শক্ত হতে সাধারণত সাত দিন সময় লাগে। কিন্তু মাত্র দুই দিনের মাথায় কোদাল-সাবল দিয়ে পিচ খুঁড়ে ব্যাপক ক্ষতি করা হয়েছে। এতে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, এলজিইডির নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ পরিচালিত হচ্ছে। নির্মাণকাজে বড় ধরনের কোনো ত্রুটি নেই। এটি নির্মাণের একটি স্বাভাবিক ধাপ। প্রথমে লেভেলিং, পরে সিল কোট দেওয়া হয়। এখনও আরও এক দফা পিচঢালাইয়ের কাজ বাকি রয়েছে।
এ বিষয়ে কয়রা উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর উপসহকারী প্রকৌশলী আফজাল হোসেন বলেন, বিটুমিন ঢালাইয়ের পর রাস্তা পুরোপুরি মজবুত হতে অন্তত সাত দিন সময় লাগে। তবে কাজে প্রাইম কোট না দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় এনে সরকারি সম্পদ রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।