ফিরোজ আল আমিন
নিজস্ব প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জ-বগুড়া নির্মাণাধীন রেলপথকে সিরাজগঞ্জ পৌর শহরের রায়পুরের সঙ্গে সংযুক্ত করে সেখানে একটি কেন্দ্রীয় রেল জংশন স্থাপনের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালন করেছে ‘সিরাজগঞ্জ রেল বাঁচাও আন্দোলন’।
রোববার (৭ জুন) সকালে সিরাজগঞ্জ শহরের রায়পুর এলাকায় আয়োজিত মানববন্ধনে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচিতে জেলার রেল যোগাযোগের ঐতিহ্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়নের স্বার্থে রায়পুরে জংশন স্থাপনের দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সিরাজগঞ্জ রেল বাঁচাও আন্দোলনের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাহবুব এ খোদা টুটুল। বক্তব্য দেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি ইসমাইল হোসেন, জেলা বাসদের আহ্বায়ক নব কুমার, জেলা রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, আন্দোলনের সদস্য সচিব তারিকুজ্জামান টরিক এবং জেলা আইনজীবী সমিতির ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিথুন রহমান।
বক্তারা বলেন, সিরাজগঞ্জ একটি ঐতিহ্যবাহী রেলনগরী। ব্রিটিশ আমল থেকে এ অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল রেলপথ। ঐতিহাসিকভাবে সিরাজগঞ্জের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের রেল যোগাযোগ ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নানা সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনার কারণে শহরের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে।
তারা অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে সিরাজগঞ্জ পৌর শহরকে রেল যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করছে। এরই অংশ হিসেবে সিরাজগঞ্জ বাজার স্টেশন থেকে আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল বন্ধ করা হয়েছে, যা জেলার লাখো মানুষের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, বর্তমানে নির্মাণাধীন সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথকে যদি রায়পুরের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়, তাহলে এটি শুধু সিরাজগঞ্জ নয়, উত্তরাঞ্চলের সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। রায়পুর এলাকায় রেলওয়ের বিপুল পরিমাণ নিজস্ব জমি, পুরোনো অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বিদ্যমান থাকায় সেখানে জংশন স্থাপন করা অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও ব্যয় সাশ্রয়ী হবে।
তাদের মতে, রায়পুরে জংশন নির্মাণ করা হলে সরকারের নতুন করে বিপুল পরিমাণ ভূমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হবে না। ফলে সরকারি অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি বিদ্যমান রেল সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। বর্তমানে অব্যবহৃত অবস্থায় থাকা রেলওয়ের অনেক জমি ও স্থাপনা বিভিন্নভাবে বেদখলের ঝুঁকিতে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন বক্তারা।
মানববন্ধনে বক্তারা অবিলম্বে রায়পুরে একটি কেন্দ্রীয় রেল জংশন স্থাপন এবং নির্মাণাধীন সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথকে এর সঙ্গে সংযুক্ত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা সিরাজগঞ্জ বাজার স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল পুনরায় চালুরও দাবি জানান।
দাবি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করে বক্তারা বলেন, জনগণের যৌক্তিক দাবি উপেক্ষা করা হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। পরে মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একটি স্মারকলিপি জমা দেন। জেলা প্রশাসকের পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন সহকারী কমিশনার রুহুল আমীন।