মোখলেছুর রহমান ধনু
রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকির অভাবে সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য হারাতে বসেছে দেশের প্রথম গুচ্ছগ্রাম কমপ্লেক্স। বিশেষ করে কমপ্লেক্সের ভেতরে অবস্থিত শিশুপার্কটি এখন চরম অযত্ন ও অবহেলায় ধুঁকছে।
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজ হাতে মাটি কেটে লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে এই ঐতিহাসিক গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের সূচনা করেন। ভূমিহীন মানুষের আবাসনের লক্ষ্যে গড়ে ওঠা এই প্রকল্পকে আকর্ষণীয় করতে এখানে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিফলক, ভাস্কর্য, মডেল ঘর, পুকুর, বাঁধানো ঘাট, মসজিদ, মুক্তমঞ্চ এবং শিশুদের বিনোদনের জন্য একটি শিশুপার্ক নির্মাণ করা হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, একসময় শিশুদের কোলাহলে মুখর থাকা শিশুপার্কটি এখন ঝোপঝাড়ে আচ্ছাদিত প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। দীর্ঘদিন সংস্কার ও পরিচর্যার অভাবে পার্কের বিভিন্ন রাইডে মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অনেক স্থাপনা ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থী ও স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দেশের প্রথম ও ঐতিহাসিক এই গুচ্ছগ্রাম কমপ্লেক্সের ঐতিহ্য রক্ষা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে এর ইতিহাস তুলে ধরতে প্রশাসনের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তারা মুক্তমঞ্চ ও শিশুপার্ক সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।
জানা গেছে, ঐতিহাসিক এই গুচ্ছগ্রাম কমপ্লেক্সের উন্নয়নে প্রায় সাড়ে আট কোটি টাকার একটি প্রকল্প রয়েছে। এত বড় বাজেটের প্রকল্প থাকা সত্ত্বেও শিশুপার্কের এমন বেহাল অবস্থা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুপা ইয়াসমিন নিপা বলেন, “বিষয়টি আমি দেখছি।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত সংস্কার ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে দেশের প্রথম গুচ্ছগ্রাম কমপ্লেক্সের হারানো সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনা হবে এবং শিশুপার্কটি আবারও শিশু-কিশোরদের প্রাণবন্ত বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হবে।