নাজিরুল ইসলাম, বগুড়া সংবাদদাতা
বগুড়ার কুন্দারহাট হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও হয়রানির অভিযোগ এনে বগুড়া-নাটোর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকরা। রবিবার (৭ জুন) সকাল ১১টা থেকে শাজাহানপুর উপজেলার জামাদারপুকুর এলাকায় প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করা হয়। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং যান চলাচল পুনরায় শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকেই শতাধিক সিএনজিচালিত অটোরিকশা মহাসড়কে রেখে চালকরা বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় তারা হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন এবং কথিত চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি জানান। অবরোধের ফলে মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় দেড় হাজার যানবাহন আটকা পড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দেশের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হয় এবং যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
বিক্ষোভকারী চালকদের অভিযোগ, বগুড়া থেকে নন্দীগ্রাম এবং নাটোরের সিংড়া পর্যন্ত সড়কে প্রতিদিন গড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল করে। কুন্দারহাট হাইওয়ে পুলিশ চালকপ্রতি মাসিক ৮০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করে বলে তারা দাবি করেন। চালকদের অভিযোগ, পুলিশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি এই অর্থ সংগ্রহের কাজ করে থাকে। নির্ধারিত চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মাঝপথে যাত্রী নামিয়ে দেওয়া, অটোরিকশা আটক, মামলা দেওয়া এবং বিভিন্নভাবে হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো ঘটনা ঘটানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।
অবরোধের খবর পেয়ে শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিক ইকবাল ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষোভকারী চালকদের সঙ্গে আলোচনা করেন। দীর্ঘ আলোচনার পর প্রশাসনের আশ্বাসে চালকরা অবরোধ প্রত্যাহার করলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
তবে চালকদের আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন কুন্দারহাট হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজ উদ্দিন। তিনি বলেন, “সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে হাইওয়ে পুলিশের চাঁদা নেওয়ার কোনো সত্যতা নেই। যদি কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
তিনি আরও জানান, “সম্প্রতি মহাসড়কে চলাচলকারী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী মামলা করা হয়েছিল। ওই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে কিছু চালক পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে মহাসড়ক অবরোধ করেছেন।”
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। চালকদের অভিযোগ ও পুলিশের বক্তব্যের মধ্যে ভিন্নতা থাকায় বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।