মাহমুদ হাসান রনি, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি:
ভারতের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা থেকে কথিত ‘পুশইন’ বা অবৈধভাবে লোকজনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে চুয়াডাঙ্গার সীমান্তজুড়ে কঠোর নজরদারি জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। জেলার বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্টে টহল বৃদ্ধি, অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন এবং সীমান্তবর্তী জনপদে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ভারতের বিভিন্ন সীমান্ত অঞ্চল থেকে বাংলা ভাষাভাষী নারী, পুরুষ ও শিশুদের ‘অবৈধ অভিবাসী’ বা ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ পরিচয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ বিভিন্ন স্থানে আলোচনায় এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে চুয়াডাঙ্গা জেলার সীমান্ত এলাকায় যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি।
বিজিবি সূত্র জানায়, জেলার দর্শনা, জীবননগর ও দামুড়হুদা উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত টহল জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ও সিসিটিভি নজরদারির মাধ্যমে সীমান্ত পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। রাতের আঁধারে কিংবা গোপন পথে কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও সম্পৃক্ত করা হয়েছে। বিজিবির উদ্যোগে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন গ্রামে সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসব সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং সাধারণ জনগণ অংশ নিচ্ছেন। সভায় সীমান্ত এলাকায় অপরিচিত বা সন্দেহজনক ব্যক্তির চলাফেরা লক্ষ্য করলে দ্রুত নিকটস্থ বিজিবি ক্যাম্প অথবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির পরিচালক ও অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন, “সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পারাপার প্রতিরোধে বিজিবির নিয়মিত অভিযান ও টহল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সীমান্তের সার্বিক নিরাপত্তা ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমরা বদ্ধপরিকর। সীমান্ত এলাকার অনেক স্থানে পাটক্ষেত ও ঘন ফসলি জমি থাকায় নজরদারিতে কিছুটা চ্যালেঞ্জ তৈরি হলেও পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতা আরও বাড়ানো হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, সীমান্তে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে বিজিবি দায়িত্ব পালন করছে এবং দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকল ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল কার্যক্রম আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। এতে সীমান্ত অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে তারা মনে করছেন।
বিজিবির দাবি, সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।