ফিরোজ আল আমিন
নিজস্ব প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলায় যমুনা নদী থেকে হাত-পা শিকল দিয়ে বাঁধা অবস্থায় এক অজ্ঞাত যুবকের বিবস্ত্র মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌপুলিশ। মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, যুবকটিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে কয়েকদিন আগে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার জোতপাড়া নৌকাঘাটের দক্ষিণ পাশে যমুনা নদীর একটি অংশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে জেলে ও স্থানীয় লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে তারা বিষয়টি চৌহালী নৌপুলিশ ফাঁড়িকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে নৌপুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উদ্ধারকৃত মরদেহের শরীরে কোনো কাপড় ছিল না। যুবকের দুই হাত ও দুই পা লোহার শিকল দিয়ে শক্তভাবে বাঁধা ছিল। এছাড়া শিকলের সঙ্গে একটি তালাও লাগানো ছিল, যা দেখে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই ধারণা করছেন, হত্যার পর মরদেহ যাতে ভেসে না ওঠে, সে উদ্দেশ্যে এমনভাবে বেঁধে নদীতে ফেলে দেওয়া হতে পারে।
চৌহালী নৌপুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) প্রবীর ভট্টাচার্য বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, উদ্ধারকৃত মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় পানিতে থাকার কারণে মরদেহে ব্যাপক পচন ধরেছে। ফলে শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন বা হত্যার আলামত তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিহত ব্যক্তির বয়স ৩০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। প্রায় চার থেকে পাঁচ দিন আগে তাকে হত্যা করে যমুনা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। মরদেহের পরিচয় শনাক্তের জন্য আশপাশের থানাগুলোতে বার্তা পাঠানো হয়েছে এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
এদিকে, নদী থেকে শিকলবদ্ধ অবস্থায় মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অনেকেই দ্রুত ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশের ধারণা, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।