মোঃ এরশাদ আলী, লংগদু (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি:
বর্তমান সরকারের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন। শারীরিক অসুস্থতাকে কারণ দেখিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।
সোমবার (১ জুন) বেলা ১১টার দিকে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তার পদত্যাগপত্র জমা দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। পরে প্রধানমন্ত্রী তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন বলেও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া পদত্যাগপত্রে দীপেন দেওয়ান উল্লেখ করেন, তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। অসুস্থতার কারণে মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা এবং দাপ্তরিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনে নানা ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের গতি বজায় রাখার স্বার্থে বর্তমান পদ থেকে অব্যাহতি গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। এ কারণে তিনি তার পদত্যাগপত্র গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিনীত অনুরোধ জানান।

দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের খবরে পার্বত্য অঞ্চলের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর কল্যাণে চলমান প্রকল্পগুলোর ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে নানা মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান ১৯৬৩ সালের ৮ জুন রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার রাঙ্গাপানি এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাঙ্গামাটি পার্বত্য আসন (২৯৯) থেকে ২ লাখ ১ হাজার ৮৪৪ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম নেওয়া দীপেন দেওয়ানের পিতা প্রয়াত সুবিমল দেওয়ানও জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় উপজাতীয় বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের ফলে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নতুন নেতৃত্ব কে গ্রহণ করবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সরকারিভাবে এখনো কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।