মোখলেছুর রহমান ধনু
রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় মেয়াদোত্তীর্ণ ও ভেজাল দই বিক্রির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে বাবুল দধি বিতানসহ দুই ব্যবসায়ীকে মোট ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে জব্দ করা বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ ও ভেজাল দই জনস্বার্থে ধ্বংস করা হয়।
সোমবার (১ জুন) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার চর লরেন্স বাজার এলাকায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আরাফাত হোসাইন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, চর লরেন্স বাজারের কয়েকটি দই বিক্রয় প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ ও মানহীন দধি বিক্রির বিষয়ে প্রশাসনের কাছে একাধিক অভিযোগ আসছিল। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে বাজারের বিভিন্ন দোকান পরিদর্শন করে বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ ও ভেজাল দই শনাক্ত করা হয়। এ সময় বাবুল দধি বিতানের মালিক নুর উদ্দিন এবং অপর ব্যবসায়ী নুরনবীকে মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য বিক্রির দায়ে হাতেনাতে আটক করা হয়।
পরে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় বাবুল দধি বিতানের মালিক নুর উদ্দিনকে ২০ হাজার টাকা এবং ব্যবসায়ী নুরনবীকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। অভিযুক্তরা তাদের অপরাধ স্বীকার করলে তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানা আদায় করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জব্দ করা মেয়াদোত্তীর্ণ ও ভেজাল দই জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করা হয়। এতে বাজারের সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে এবং প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানান স্থানীয়রা।
অভিযান চলাকালে উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. রিয়াজ উদ্দিন উপস্থিত থেকে খাদ্যপণ্যের মান যাচাই ও প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা প্রদান করেন। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও সার্বিক সহযোগিতা করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আরাফাত হোসাইন বলেন, “ভোক্তাদের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষা করা প্রশাসনের অন্যতম দায়িত্ব। মেয়াদোত্তীর্ণ ও ভেজাল খাদ্যপণ্য বিক্রির বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী দুই ব্যবসায়ীকে মোট ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং জব্দকৃত পণ্য ধ্বংস করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “বাজারে যাতে কোনো অসাধু ব্যবসায়ী মেয়াদোত্তীর্ণ বা ভেজাল খাদ্যপণ্য বিক্রি করতে না পারে, সেজন্য নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, বাজারে খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণ এবং ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে প্রশাসনের এমন অভিযান আরও জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদেরও আইন মেনে নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্যপণ্য বিক্রির প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।