দেলোয়ার হোসেন, জামালপুর প্রতিনিধি
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় তীব্র গরমের মধ্যে মাঠে ধান কাটার সময় অসুস্থ হয়ে আসাদুল ইসলাম (৪৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, প্রচণ্ড গরম ও হিট স্ট্রোকজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সোমবার (১ জুন) সকালে উপজেলার পাররামরামপুর ইউনিয়নের পূর্ব ভাতখাওয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আসাদুল ইসলাম ওই গ্রামের বাসিন্দা এবং মো. মহল মন্ডলের ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আসন্ন ঈদুল আজহার ছুটি উপলক্ষে ঢাকা থেকে নিজ গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন আসাদুল ইসলাম। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ঢাকায় বসবাস ও জীবিকা নির্বাহ করলেও পরিবারকে সহযোগিতা করতে গ্রামের বাড়িতে এসে কৃষিকাজে অংশ নেন। সোমবার সকালে গ্রামের আরও কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে ধান কাটার জন্য মাঠে যান তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সকাল থেকেই এলাকায় ছিল তীব্র গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়া। খোলা মাঠে দীর্ঘ সময় কাজ করার একপর্যায়ে আসাদুল ইসলাম হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রথমে তিনি বুকের তীব্র ব্যথা অনুভব করেন এবং কিছুক্ষণ পর মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তার অবস্থার অবনতি দেখে সঙ্গে থাকা লোকজন দ্রুত তাকে পাশের একটি বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে শরীরে পানি ঢেলে এবং অন্যান্য প্রাথমিক সেবা দিয়ে তাকে সুস্থ করার চেষ্টা করা হয়।
কিন্তু অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় স্বজন ও স্থানীয়রা দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে সারমারা বাজার এলাকায় পৌঁছালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পরে স্বজনরা তার মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসেন।
নিহতের পরিবার জানায়, আসাদুল ইসলাম নিয়মিত কৃষিকাজ করতেন না। শহরে বসবাসের কারণে দীর্ঘদিন খোলা মাঠে কঠোর পরিশ্রমের অভ্যাস ছিল না। ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ধান কাটতে গিয়ে তিনি এমন মর্মান্তিক ঘটনার শিকার হন।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলে সন্তান রেখে গেছেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে স্ত্রী-সন্তানদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক ও অনিশ্চয়তা। তার আকস্মিক মৃত্যুতে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যেও শোকের ছায়া বিরাজ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত কয়েকদিন ধরে জামালপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র তাপদাহ অব্যাহত রয়েছে। দিনের বেলায় খোলা মাঠে কাজ করতে গিয়ে অনেক কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছেন। বিশেষ করে দুপুরের দিকে প্রচণ্ড রোদ ও অতিরিক্ত গরমে অসুস্থ হওয়ার ঘটনা বাড়ছে।
স্বাস্থ্যসচেতন মহল বলছে, তীব্র গরমের সময় দীর্ঘক্ষণ রোদে কাজ করলে হিট স্ট্রোক, পানিশূন্যতা, মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট ও হৃদ্রোগজনিত জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই প্রয়োজন ছাড়া দুপুরের প্রখর রোদে কাজ না করা, পর্যাপ্ত পানি পান করা, ছায়াযুক্ত স্থানে বিশ্রাম নেওয়া এবং অসুস্থ বোধ করলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এদিকে আসাদুল ইসলামের মৃত্যুতে পূর্ব ভাতখাওয়া গ্রামে শোকের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। গ্রামের মানুষ তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে এই দুঃসময়ে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও পরিবারটির খোঁজখবর নিয়েছেন বলে জানা গেছে।