হৃদয় রায়হান, নিজস্ব প্রতিনিধি:
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার গড়াই নদ ড্রেজিং প্রকল্পের বালু অপসারণকাজ চলাকালে দুর্বৃত্তদের গুলিতে চার শ্রমিক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। রোববার (৩১ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার জুগিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন ডাম্প ট্রাকচালক ফিরোজ (৪২), শ্রমিক সবুজ (৩০), ঘাটের ম্যানেজার মিলন (৩৫) এবং ভেকুচালক বাবলা (৪০)। তাঁদের কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত শ্রমিক সবুজকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ইকবাল হাসান জানান, রাতেই চারজন আহত ব্যক্তি হাসপাতালে ভর্তি হন। তাঁদের মধ্যে ফিরোজ ও সবুজ গুলিবিদ্ধ ছিলেন। সবুজের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। অন্য আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডাম্প ট্রাকচালক ফিরোজ অভিযোগ করেন, জুগিয়া এলাকায় গড়াই নদ ড্রেজিং প্রকল্পের বালু অপসারণের কাজ চলছিল। এ সময় ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল ঘটনাস্থলে এসে শ্রমিকদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে তিনি ও শ্রমিক সবুজ গুলিবিদ্ধ হন। এছাড়া ঘাটের ম্যানেজার মিলন, ভেকুচালক বাবলাসহ আরও কয়েকজনকে মারধর করা হয়। হামলাকারীরা প্রায় ২০ রাউন্ড গুলি ছুড়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে বলে দাবি করেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের গড়াই নদ ড্রেজিং ও তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় স্তূপাকার বালু অপসারণের ইজারা পায় আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর মহিদুল ইসলামের মালিকানাধীন ‘মেহেদী এন্টারপ্রাইজ’। পরে প্রতিষ্ঠানটি বিএনপি নেতা এ কে বিশ্বাস বাবুর কাছে ইজারার দায়িত্ব হস্তান্তর করে।
স্থানীয়দের ধারণা, বালু ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ, আধিপত্য বিস্তার এবং আর্থিক স্বার্থকে কেন্দ্র করেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় বালু উত্তোলন ও পরিবহন নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল বলে জানান কয়েকজন বাসিন্দা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকায় গড়াই নদ ড্রেজিংকৃত বালু অপসারণের ইজারা পায় মেহেদী এন্টারপ্রাইজ। গত বছরের ২৫ মে ইজারার মেয়াদ শেষ হলেও পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। সেই সুযোগে পুনরায় বালু অপসারণ কার্যক্রম শুরু হয়।
কুষ্টিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি এ কে বিশ্বাস বাবু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “আমরা আগের ইজারাদারের কাছ থেকে কাজটি কিনে নিয়েছি। বৈধভাবে বালু অপসারণের কাজ চলছিল। এ সময় দুর্বৃত্তরা শ্রমিকদের ওপর হামলা ও গুলি চালায়। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”
তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশিদুর রহমান সরাসরি দপ্তরে এসে কথা বলার পরামর্শ দেন।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে এবং হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে।
স্থানীয়দের দাবি, বালু ব্যবসাকে কেন্দ্র করে সংঘাত ও সহিংসতার ঘটনা নতুন নয়। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং দ্রুত আইনি পদক্ষেপ না হলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।