হৃদয় রায়হান, নিজস্ব প্রতিনিধি:
কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় ভুট্টা বিক্রির টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ছিনতাইকারীদের হামলায় দুই যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আহতদের উদ্ধার করে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
রোববার (৩১ মে) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া মাঠ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন সদরপুর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে শাফায়াত আলী (২০) এবং আব্দুস সামাদের ছেলে রাব্বি হোসেন (১৯)।
স্থানীয় সূত্র ও আহতদের স্বজনরা জানান, রামনগর এলাকা থেকে ভুট্টা বিক্রি করে ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা নিয়ে ভ্যানে করে বাড়ি ফিরছিলেন শাফায়াত ও রাব্বি। রাতের অন্ধকারে তারা বাঁশবাড়িয়া মাঠের মধ্যে পৌঁছালে আগে থেকেই ওৎ পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্ত তাদের পথরোধ করে।
একপর্যায়ে ছিনতাইকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় দুই যুবক শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হন। পরে তাদের কাছ থেকে নগদ ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ও ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে দুর্বৃত্তরা।
আহতদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করেন। পরে দ্রুত মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করা হয়।
মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. কামাল উদ্দিন জানান, আহত দুই যুবকের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং বর্তমানে তারা শঙ্কামুক্ত ও স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন।
ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাঁশবাড়িয়া মাঠসহ আশপাশের নির্জন সড়কগুলোতে রাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় অপরাধীরা সুযোগ নিচ্ছে। তারা দ্রুত ছিনতাইকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, “এ ধরনের কোনো ঘটনার বিষয়ে এখনো থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনার পর আহতদের পরিবার থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের আশা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত তৎপরতায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।