মাহমুদ হাসান রনি, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি:
চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার বেগমপুর ইউনিয়নে ঘুমন্ত অবস্থায় বিষধর সাপের কামড়ে এক জামায়াত নেতার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহত ব্যক্তি বেগমপুর ইউনিয়ন জামায়াতের উলামা বিভাগের সভাপতি, বিশিষ্ট ইসলামিক বক্তা ও পেশ ইমাম ক্বারী সাফাতুল্লাহ (৪০)। তার আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রোববার (৩১ মে) দিবাগত রাতে নিজ বাড়ির শয়নকক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন ক্বারী সাফাতুল্লাহ। রাতের কোনো এক সময়ে একটি বিষধর সাপ তাকে দংশন করে। প্রথমদিকে বিষয়টি তিনি বুঝতে না পারলেও কিছু সময়ের মধ্যে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালে ভর্তির পর চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা প্রদান করেন। কিন্তু বিষক্রিয়ার মাত্রা বেশি হওয়ায় তার অবস্থার ক্রমেই অবনতি ঘটে। সোমবার (১ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত ক্বারী সাফাতুল্লাহ চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার বেগমপুর ইউনিয়নের যদুপুর গ্রামের কুমিল্লাপাড়ার বাসিন্দা এবং মো. শফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় শিক্ষা, ইসলাম প্রচার ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এলাকার বিভিন্ন মসজিদে ইমামতি করার পাশাপাশি তিনি একজন জনপ্রিয় ইসলামিক বক্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার মৃত্যুতে ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, অনুসারী ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।
খবর পেয়ে আত্মীয়-স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা নিহতের বাড়িতে ছুটে যান এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন।
এদিকে ক্বারী সাফাতুল্লাহর মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন জেলা জামায়াতের আমীর এবং চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিন। এছাড়া চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট রাসেল আহম্মেদ পৃথক শোকবার্তায় মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
স্থানীয়রা জানান, ক্বারী সাফাতুল্লাহ ছিলেন অত্যন্ত সৎ, বিনয়ী ও ধর্মপ্রাণ একজন মানুষ। তার মৃত্যুতে শুধু পরিবার নয়, পুরো এলাকাবাসী একজন জনপ্রিয় ধর্মীয় ব্যক্তিত্বকে হারালো। তার জানাজার সময় ও দাফনের বিষয়ে পরে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হবে।
সাপের কামড়ে এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ায় গ্রামাঞ্চলে সাপের উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।