মোঃ সামছু উদ্দিন লিটন, সেনবাগ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার ৫নং অর্জুনতলা ইউনিয়নের গোরকাটা এলাকায় শিক্ষার প্রসার, মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহ প্রদান এবং সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে গোরকাটা নবজাগরণের সংঘের ৭ম বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান। শনিবার (৩০ মে) সন্ধ্যায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, সমাজসেবক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক, শিক্ষানুরাগী, সৈয়দ হারুন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা এবং টপস্টার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক লায়ন সৈয়দ হারুন এমজেএফ। তিনি কৃতী ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তি, সনদপত্র ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে লায়ন সৈয়দ হারুন বলেন, “শিক্ষাই একটি জাতির উন্নয়ন ও অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি। আজকের মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের দক্ষ নেতৃত্ব গড়ে তুলবে। তাদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশে সমাজের প্রতিটি সচেতন মানুষের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীদের শুধু ভালো ফলাফল অর্জন করলেই হবে না, তাদের নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ এবং দেশপ্রেমের চেতনাতেও সমৃদ্ধ হতে হবে। তাহলেই তারা দেশ ও জাতির কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোরকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহীদ উল্যাহ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শেখ ফরিদ, আব্দুল বাতেন ও শহীদুল্লাহ, সাবেক ছাত্রনেতা মীর মোশারফ হোসেন মানিক, সমাজসেবক মোহাম্মদ গোলাম রসুল ডালিম এবং গোরকাটা নবজাগরণের সংঘের সাবেক সভাপতি মো. তালেবুজ্জামান পলাশসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
গোরকাটা নবজাগরণের সংঘের সভাপতি গোলাম কুদ্দুসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গোরকাটা নবজাগরণের সংঘ শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন, মানবকল্যাণ ও যুবসমাজের ইতিবাচক বিকাশে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা ও বৃত্তি প্রদানের এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা তাদের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের স্বীকৃতি তাদের পড়াশোনার প্রতি আরও মনোযোগী হতে উৎসাহিত করবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জন এবং সমাজের জন্য কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগাবে।
অভিভাবকরাও আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা ও পরিশ্রমকে মূল্যায়নের মাধ্যমে তাদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায়। ফলে তারা আরও বড় স্বপ্ন দেখতে এবং তা বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যেতে সাহস পায়।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিবৃন্দ শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন এবং গোরকাটা নবজাগরণের সংঘের এমন মহতী উদ্যোগের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
স্থানীয়দের মতে, শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধভিত্তিক এ ধরনের আয়োজন সেনবাগ অঞ্চলের সামাজিক উন্নয়ন ও শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে আলোকিত, দক্ষ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতেও সহায়ক হচ্ছে।