শাহজাদপুর থানায় ছাত্রদল নেতার হামলা: পুলিশ সদস্যের মোবাইল ভাঙচুর
নিজস্ব প্রতিবেদক,
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর থানায় ঢুকে পুলিশের ওপর চড়াও হওয়া এবং এক পুলিশ সদস্যের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ছাত্রদল নেতাদের বিরুদ্ধে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে শাহজাদপুর থানায় এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, একটি মোটরসাইকেল কেনাবেচা নিয়ে বিরোধের জেরে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। ওই ঘটনার মধ্যস্থতা করতে শাহজাদপুর সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি সাব্বির আহমেদ থানায় যান। সেখানে কর্তব্যরত উপ-পরিদর্শক (এসআই) তাকে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন করলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন সাব্বির। এসময় পুলিশের সঙ্গে তার তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়।
একপর্যায়ে সাব্বির থানা থেকে বেরিয়ে যান এবং কিছুক্ষণ পর কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল সাফায়েত আদিবসহ দলবল নিয়ে পুনরায় থানায় প্রবেশ করেন। তারা পুলিশের বিরুদ্ধে আওয়ামী প্রীতির অভিযোগ এনে শ্লোগান দিতে থাকেন। এসময় ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে এক পুলিশ কনস্টেবলের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে তা ভেঙে ফেলা হয়।
কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল সাফায়েত আদিব পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, “মোটরসাইকেলের ঘটনায় পুলিশ টাকা চেয়েছিল। সাব্বির টাকা দিতে না চাওয়ায় ও পরিচয় দেওয়ায় পুলিশ তার গায়ে হাত তুলেছে। ফোন ভাঙার বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ঘটে গেছে।”
তবে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আল মামুন জুয়েল জানিয়েছেন, “সংগঠনের অনুমতি ছাড়া তারা থানায় গিয়েছিল। ব্যক্তির দায় সংগঠন নেবে না। তদন্ত করে দোষী সাব্যস্ত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “মোটরসাইকেলের মালিকের কোনো হদিস নেই, অথচ ওই ছেলেটি দলবল নিয়ে এসে অকারণে পুলিশের ওপর চড়াও হয়। তারা পুলিশের কাজে বাধা দিয়েছে এবং একজন কনস্টেবলের মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলেছে। পুলিশের ওপর হামলার এই ঘটনায় আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।”








