শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১০:২৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
শাহজাদপুর থানায় ছাত্রদল নেতার হামলা: পুলিশ সদস্যের মোবাইল ভাঙচুর সমন্বয়হীনতায় সোলার বিদ্যুৎ গলার কাঁটা,মাসে ৫ লাখ টাকা গচ্চা শাহজাদপুরে দুধের কারখানায় বায়োগ্যাস বিস্ফোরণ: ২ শ্রমিক আশঙ্কাজনক এমআরএ-এর নির্দেশনা উপেক্ষা; ঈশ্বরদীতে নিউ এরা ফাউন্ডেশনের কর্মীদের শনিবারও কিস্তি আদায়ে বাধ্য করার অভিযোগ কমলনগরে জনবসতিতে অবৈধ পোল্ট্রি খামার: দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ গ্রামবাসী, অসুস্থ ৬ উল্লাপাড়ায় বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম এর দাফন সম্পুর্ণ  খাগড়াছড়িতে বিএনপি’র রাজনীতিতে অদম্য এক নারী কুহেলী দেওয়ান ময়মনসিংহ ডিবি পুলিশের অভিযানে ৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার-০২ খাগড়াছড়ি মানিকছড়িতে মাহা সংগ্রাই উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী বলি খেলা; আরেশে মারমা চ্যাম্পিয়ন অভয়নগরে ভুয়া দর্জি প্রশিক্ষণের জাল, নিবন্ধনহীন প্রতিষ্ঠানের নামে অর্থ বাণিজ্য

সমন্বয়হীনতায় সোলার বিদ্যুৎ গলার কাঁটা,মাসে ৫ লাখ টাকা গচ্চা

Reporter Name / ১৫ Time View
Update : শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬

 

ফিরোজ আল আমিন

​নিজস্ব প্রতিবেদক,

​সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদন থাকলেও বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা ‘নেসকো’র সঙ্গে সমন্বয়হীনতার কারণে প্রতি মাসে সরকারের প্রায় ৫ লাখ টাকা লোকসান হচ্ছে। বড় অংকের সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন হলেও ‘নেট মিটারিং’ চুক্তি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকায় এই বিশাল অংকের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

​বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানে ৫ কিলোওয়াট বা তার বেশি ক্ষমতার সোলার সিস্টেম স্থাপন করা হলে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গ্রাহকের ‘নেট মিটারিং’ চুক্তি করা বাধ্যতামূলক। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয় এবং মাস শেষে ব্যবহৃত বিদ্যুতের বিলের সঙ্গে তা সমন্বয় করা যায়। অথচ শহীদ এম মনসুর আলী হাসপাতালে বিশাল বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও এই পথে হাঁটেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

​সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ২০ কিলোওয়াট ক্ষমতার সোলার সিস্টেমে ইতোমধ্যে নেট মিটারিং চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। ফলে সেখানে উৎপাদিত বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় হচ্ছে। বিপরীতে, শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ১৭০ কিলোওয়াট ক্ষমতার বিশাল সোলার সিস্টেম স্থাপন করা হলেও দীর্ঘ দিনেও নেসকোর সঙ্গে কোনো চুক্তি হয়নি। এমনকি সেখানে বসানো হয়নি নেট মিটারও।

​গণপূর্ত বিভাগের হিসাব মতে, হাসপাতালের ১৭০ কিলোওয়াট সোলার সিস্টেমটি অন-গ্রিড লাইনের মাধ্যমে সচল রয়েছে। এই সিস্টেম থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৫ লাখ টাকার সমপরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। কিন্তু চুক্তি না থাকায় এই উৎপাদিত বিদ্যুতের কোনো আর্থিক সুবিধা পাচ্ছে না হাসপাতাল। নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী অশীথ পর্দ্দার জানান, গত মার্চ মাসে হাসপাতালে প্রায় ৭০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে। তবে বিল সমন্বয়ের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

​সোলার প্রকল্প বাস্তবায়নকারী গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মিজানুর রহমান জানান, সিস্টেমটি সচল থাকলেও গ্রিড সমন্বয়ের অভাবেই এই আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. ওয়াদুদ বলেন:

​”আমাদের নেট মিটারিং ব্যবস্থা এখনো চালু না হওয়ায় আমরা আর্থিক সুবিধাতা পাচ্ছি না। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য আমরা নেসকোর সঙ্গে যোগাযোগ করার প্রক্রিয়া শুরু করেছি।”

​বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যেখানে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর জোর দিচ্ছে, সেখানে ১৭০ কিলোওয়াটের একটি প্ল্যান্ট থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে সমন্বয় না হওয়া চরম দায়িত্বহীনতা। দ্রুত চুক্তি সম্পন্ন করে নেট মিটারিং চালু করা হলে সরকারি এই বিপুল পরিমাণ অর্থ অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর