সিরাজগঞ্জে মোটরসাইকেল বিক্রি কমেছে, কাগজপত্র করতে ভিড়
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :
সিরাজগঞ্জে মোটরসাইকেল বাজারে মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। লাইসেন্স ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া মোটরসাইকেলে জ্বালানি সরবরাহ না করার প্রশাসনিক কড়াকড়ির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে জেলায়। ফলে একদিকে নতুন ও পুরাতন মোটরসাইকেল বিক্রি কমে গেছে, অন্যদিকে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও রেজিস্ট্রেশনের আবেদন বেড়ে গেছে উল্লেখযোগ্য হারে।
বুধবার (১ এপ্রিল ) জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, জ্বালানি সংকট এবং প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারণে মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে বৈধ কাগজপত্র তৈরির আগ্রহ বেড়েছে। বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা গেছে। অনেক চালক বৈধ কাগজপত্র না থাকায় জ্বালানি না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন, যা তাদের দৈনন্দিন চলাচলে ভোগান্তি তৈরি করছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। এর ফলে জেলায় জ্বালানি সরবরাহে চাপ সৃষ্টি হয়েছে এবং পাম্পগুলোতে সংকট পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশনের আবেদন। সিরাজগঞ্জ জেলা বিআরটিএ অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ৬৭৩টি, ফেব্রুয়ারিতে ৪৫৭টি এবং মার্চ মাসে ৬৬৪টি ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন জমা পড়েছে। একই সময়ে মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশনের জন্য জানুয়ারিতে ২৭৩টি, ফেব্রুয়ারিতে ২২০টি এবং মার্চে ১৪১টি আবেদন করা হয়েছে।
এদিকে মোটরসাইকেল বিক্রেতারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরেই বাজারে মন্দাভাব বিরাজ করছে। সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকট সেই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ক্রেতারা নতুন কিংবা পুরাতন মোটরসাইকেল কেনার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।
শহরের এস.বি ফজলুল হক রোডের আলতাফ কমপ্লেক্সের একটি শোরুমের মালিক বেলাল হোসেন জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে ব্যবসা প্রায় বন্ধের পথে। আগে যেখানে মাসে কিছু বিক্রি হতো, এখন অনেক সময় পুরো মাসেও একটি মোটরসাইকেল বিক্রি হচ্ছে না।
একই এলাকার আরেক ব্যবসায়ী মো. রাসেল শেখ বলেন, গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে বিক্রি কমতে শুরু করলেও বর্তমানে পরিস্থিতি আরও খারাপ। জ্বালানি সংকটের কারণে বাজার প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
পুরাতন মোটরসাইকেল ব্যবসায়ীরাও একই সমস্যার কথা জানিয়েছেন। এক ব্যবসায়ী বলেন, “গাড়ি কিনতেও পারছি না, বিক্রিও করতে পারছি না। ঈদের মৌসুমেও বিক্রি নেই। কর্মচারীদের বেতন দিতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে।”
সিরাজগঞ্জ বিআরটিএর এক কর্মকর্তা জানান, জ্বালানি সংকট ও প্রশাসনের কড়াকড়ির কারণে মানুষ এখন বৈধ কাগজপত্র তৈরিতে আগ্রহী হচ্ছেন। ঈদের ছুটির কারণে আবেদন কিছুটা কম হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবেদন আরও বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সড়ক শৃঙ্খলা ফেরাতে লাইসেন্সবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বৈধ কাগজপত্র ছাড়া মোটরসাইকেলে জ্বালানি সরবরাহ না করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে ‘ফুয়েল কার্ড’ চালুর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে, যা দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ চলছে।
সচেতন মহল মনে করছে, প্রশাসনের এই উদ্যোগ স্বল্পমেয়াদে মোটরসাইকেল বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেললেও দীর্ঘমেয়াদে সড়ক নিরাপত্তা ও পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। লাইসেন্স ও বৈধ কাগজপত্র নিশ্চিত হলে দুর্ঘটনা কমার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে তারা মনে করছেন।








