বদলে যাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য, পাহাড়ের দুলছে সরিষার ফুল
মোঃ এরশাদ আলী, লংগদু (রাঙামাটি) প্রতিনিধি :
রাঙ্গামাটির লংগদুতেও সমতলের ন্যায় পাহাড়ি জনপদেও বেড়ে চলেছে সরিষার চাষ। পাহাড়ের সবুজ প্রকৃতির মাঝে দোল খাচ্ছে সোনালী সরিষা ফুল। শীতের মৃদু হাওয়া আর সরিষা ফুলের মিষ্টি সুবাসে চারদিকে তৈরি হয়েছে এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। এ যেন হলুদের সমারোহ। পাহাড়ের বুকে সরিষার বাম্পার ফলনের আশার হাতছানিতে স্থানীয় কৃষকদের মুখে ফুটে উঠেছে হাসি।
স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর সহযোগিতায় তামাক ছেড়ে সরিষার চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা। কাপ্তাই হ্রদের তীরবর্তী এসব এলাকায় একসময় নিচু জমিতে ব্যুরোধান চাষ হতো এবং অধিকাংশ জমিতে ক্ষতিকর তামাক চাষ করা হতো। সেসব চিত্র এখন বদলে যাচ্ছে। তামাকের বদলে এখন সেখানে শোভা পাচ্ছে স্বাস্থ্যকর সরিষা চাষ। কৃষি বিভাগের মাঠ কর্মকর্তাদের সঠিক পরামর্শে দিনদিন সরিষা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন কৃষকরা।
এলাকার স্থানীয় কৃষকরা জানান, আমন ধান কাটার পর জমি ফেলে না রেখে সরিষা চাষ করছেন তারা । স্বল্পমেয়াদি এই ফসলটি ঘরে তোলার পর আবার অন্য ফসল চাষের সুযোগও থাকছে। এতে বছরে তিনটি ফসল ফলানো সম্ভব হচ্ছে একই জমিতে।
তারা বলেন, “আগে তামাক চাষ করতাম, তামাকে পরিশ্রম বেশি । এখন সরিষা চাষ করি, এতে সময় কম লাগে, লাভ বেশী পাই।”
লংগদু উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৬৭ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। চাষকৃত জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে: বারি-১৪, ১৭, ১৮ ও ২০ বিনা-৯ উল্লখযোগ্য। উৎপাদন বেড়েছে গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওয়াসিফ রহমান বলেন, “ভোজ্য তেলের আমদানি নির্ভরতা কমাতে আমরা কৃষকদের সরিষা চাষে উৎসাহ প্রদান করছি। আমরা কৃষকদের উন্নত মানের বীজ, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও নিয়মিত পরামর্শ দান করছি। এতে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি কৃষকরাও আর্থিকভাবে লাভ বান হচ্ছেন।”
পাহাড়ের বুকে যখন কিছুদিন আগেও ক্ষতিকর তামাক চাষে ঝুঁকেছিল কৃষকরা। সেখান স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শে তামাকের মতো ক্ষতিকর চাষাবাদ ছেড়ে পরিবেশ বান্ধব সরিষার চাষে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজেদের ভাগ্য বদলাচ্ছে। এতে পাহাড়ের অর্থনীতিতে যেমন নতুন মাত্রা যোগ করেছে, তেমনি পরিবেশও সুস্থ থাকছে।








