ময়মনসিংহে জমি দখলকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসী হামলা : ব্যবসায়ীকে মারধর, দোকানঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ
গোলাম কিবরিয়া পলাশ, ব্যুরো প্রধান ময়মনসিংহঃ
ময়মনসিংহ শহরের কোতোয়ালী থানাধীন কেওয়াটখালী এলাকায় পৈত্রিক সম্পত্তিতে দোকানঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে এক ব্যবসায়ীর ওপর সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী হামলা, ভাঙচুর, মারধর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী মোঃ মনির হোসেন (৩২) এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে মনির হোসেনের সঙ্গে একই এলাকার হারুন অর রশিদ হারুন (৪০), মোঃ বাবুল মিয়া (৪৮), মোঃ মনিরুজ্জামান (চঞ্চল) (৪২), কাজল (৪৫) এবং আরও অজ্ঞাতনামা ৭–৮ জনের সঙ্গে পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। বিবাদীরা প্রায়ই তাকে ও তার পরিবারকে খুন-জখম, মিথ্যা মামলা ও বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে আসছিল।
গত (৩ ডিসেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে মনির হোসেন তার জমিতে নতুন দোকানঘর নির্মাণের কাজ করছিলেন। ওই সময় বিবাদীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে নির্মাণকাজে বাধা দেয়। বিষয়টি জানতে পেরে মনির ও তার পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে গেলে বিবাদীরা তাদের ওপর অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং একপর্যায়ে প্রকাশ্যে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।
চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিবাদীরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। পরে বিবাদীরা নির্মাণাধীন দোকানঘর ও বাউন্ডারি দেয়ালে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়, যার ফলে প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া মনিরের ওয়ার্কশপ থেকে বিভিন্ন মেশিনপত্র, গাড়ির পার্টস, ব্যাটারি, টায়ারসহ প্রায় ৮ লাখ টাকার মালামাল এবং ক্যাশবাক্স থেকে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে বিবাদীরা তার হাতে থাকা দুইটি স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেয়, যার মূল্য প্রায় ৪০ হাজার টাকা। চিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এলে বিবাদীরা ভয়ভীতি দেখিয়ে বলে, বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে অথবা দাবি করা চাঁদার টাকা না দিলে সুযোগ পেলে তাকে বা তার পরিবারের কাউকে খুন করে লাশ গুম করে ফেলবে। পাশাপাশি অজ্ঞাত লোকজন দিয়ে বড় ধরনের ক্ষতি সাধন ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার হুমকিও দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীর দাবি, বিবাদীরা এলাকায় সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যু হিসেবে পরিচিত এবং তারা যেকোনো সময় বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে। এজন্য বিষয়টি স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় অভিযোগ দায়ের করতে বাধ্য হয়েছেন।
অভিযোগের সঙ্গে জমির তফসিলও সংযুক্ত করা হয়েছে। কেওয়াটখালী মৌজার খতিয়ান নং ৭৮৩, দাগ নং ১০৩৮ ও ১০৩৯, শ্রেণী কান্দা, মোট জমির পরিমাণ ১৬ শতাংশ বলে উল্লেখ আছে। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযোগটি গ্রহণ করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।








