সান্তাহারে কয়েকটি আবাসিক হোটেলে অনৈতিক কর্মকান্ড, তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা
আবু বকর সিদ্দিক বক্করঃ আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি
বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহার রেলওয়ে স্টেশন রোড এলাকার অর্ধ ডজন আবাসিক হোটেলে দীর্ঘ দিন ধরে অনৈতিক কর্মকান্ডের অভিযোগে বিক্ষুব্ধ জনতা তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে।
বর্তমানে স্টেশন রোডের আবাসিক হোটেল গুলো মিনি পতিতালয়ে পরিনত হয়েছে বলে মন্তব্য করছেন স্থানীয় লোকজন। আবাসিক হোটেলে দেহ ব্যবসা বন্ধ না হওয়ায় স্থানীয় বিক্ষুদ্ধ জনতা রাববার ওই এলাকার পলাশ বার্ডিং, মাসুসিতা হোটেল, সান্তাহার বোর্ডিং, শুভ বোর্ডিং এ তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। সান্তাহার টাউন ফাঁড়ি পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় এ সকল অবাধ কর্মকান্ড চলছে বলে এলাকা বাসির অভিযোগ।
এলাকাবাসির অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, এ সকল আবাসিক হোটেলে দিনরাত অবাধে দেহ ব্যবসা চলে আসছে। দীর্ঘ দিন থেকে এ সকল হোটেলের দেহ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন হাটেল ম্যানজার আজাদ, বাবু, ফরিদ, এমদাদ সহ আরো কয়েক ব্যক্তি। দেহ ব্যবসার পাশাপশি এসব হোটেলে মাদক ব্যবসা, মাদক সেবন ও জুয়ার আসর চলে বলে অভিযাগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ আছে হোটেলের ম্যানজার ও কর্মচারীরা ট্রেন যাত্রীদের কৌশলে হোটেলের ভিতরে ডেকে নিয়ে গিয়ে তাদের কাছে থাকা টাকা ও মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য মুল্যবান জিনিসপত্র কেড়ে নেয়। এদের খপ্পরে পড়ে শহরের যুব সমাজ ধংসের দিকে চলে যাচ্ছে বলে স্থানীয়রা মন্তব্য করেন।
হোটেল গুলোর পাশের রাস্তা দিয়ে সান্তাহার সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে। অনেক সময় হোটেলের কর্মচারীরা কলেজ গামী ছাত্রীদের নানা ভাবে উত্তাক্ত করে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি সান্তাহার টাউন ফাঁড়ি পুলিশকে অবহিত করার পরেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। হোটেল গুলোর পাশে মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট, সান্তাহার প্রেসক্লাবের কার্যালয় রয়েছে। প্রেসক্লাবে নানা সমস্যা নিয়ে আসা লোকজন এলাকায় আসলে এ সকল হোটেলের অনৈতিক কর্মকান্ডে চরম বিড়ম্বনায় পড়েন। বিষয়টি সম্পর্কে একাধিক বার প্রশাসনে বলে ও বিভিন্ন সময় পত্রিকায় লিখেও কোনো লাভ হয়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্টেশন এলাকার কয়েকজন দোকানদার বলেন, সান্তাহার শহর পুলিশের নিয়োগ করা সুনিল নামের এক ব্যক্তি প্রতিদিন এসব আবাসিক হোটেল থেকে টাকা তুলে নিয়ে যায়। সুনিলের এ বিষয়টি শহরের সকলেরই জানা। সান্তাহার পৌর যুবদলের যুগ্ম-আহবায়ক শাজাহান আলম স্বপন, ফেরদৌস হাসান এবং নওগাঁ জজ কোর্টের অ্যাডভোকেট সুরুজ আলী বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে এসব আবাসিক হোটেলে অনৈতিক কর্মকান্ড চলে আসলেও এ বিষয়ে পুলিশ প্রশাসন একেবারেই নিরব। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার পুলিশকে অবহিত করা হলেও পুলিশ প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। পুলিশের সহযোগিতা না পেয়ে বিক্ষুদ্ধ জনতা কয়েকটি আবাসিক হোটেল তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। সান্তাহার নাগরিক কমিটির অন্যতম সদস্য সাবেক অধ্যাপক রবিউল ইসলাম বলেন, শহরের একবারে প্রাণকেন্দ্রে এ ধরণের কর্মকান্ড চলায় আমাদের জন্য এটি চরম লজ্জার ও অপমানের। তিনি এ ধরণের কর্মকান্ড বন্ধে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।








