সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ০৩:৫৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম
তৃণমূল থেকে উঠে আসা এক আদর্শিক নেতা: তাড়াশের রাজনীতিতে মো. সোলাইমান হোসেন সিহাব স্বাধীনতার প্রথম সূর্যোদয়: যে কক্ষে রচিত হয়েছিল বাংলাদেশের পতাকার নকশা কুষ্টিয়ায় লালন আঁখড়াবাড়ীতে দোল পুর্ণিমা উৎসবের প্রস্তুতি সম্পন্ন  কুষ্টিয়ার মিরপুরে সংসদ সদস্যের সাথে সরকারি কর্মকর্তাদের মতবিনিময়  কুষ্টিয়ায় ট্রেনের নিচে পড়ে মোটরসাইকেল আরোহী নিহত  অভিযোগ ও সংবাদ প্রকাশের পরে তাড়াশ সদর ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী মোঃ আরিফুল ইসলাম পলাশকে শাস্তিমূলক বদলি কমলনগরে নদী কেড়েছে ভিটেমাটি, কাড়তে পারেনি ভালোবাসা: চর কালকিনিতে মাস্টার সাইফুল্লাহর ৩৩ বছরের আস্থার প্রতিচ্ছবি কুষ্টিয়ায় জিকে ক্যানেল থেকে নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার পিআরও হিসেবে সাংবাদিক নিয়োগের প্রস্তাব সচিবালয়ে জমা   আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় তিন ভাই গ্রেপ্তার 

ঠাকুরগাঁওয়ে জমি দখলের অভিযোগ বহিষ্কৃত বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে 

Reporter Name / ১৩১ Time View
Update : রবিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২৫

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

আদালতে মামলা চলমান থাকার সত্ত্বেও হুমক-ধামকি দিয়ে জমি জবর-দখলের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির বহিষ্কৃত নেতাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (২২নভেম্বর) সকালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নের ফাড়াবাড়ি দক্ষিণ বঠিনা এলাকায়।

এঘটনায় ভুক্তভোগী কৈলাশ চন্দ্র বর্মন (৬২) সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কৈলাশ চন্দ্র বর্মনের সঙ্গে একই এলাকার ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক (বহিষ্কৃত) আবু তালেব (৪৮), আব্দুল গফ্ফার (৫০) সহ আরও কয়েকজনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। বিষয়টি নিয়ে কৈলাশ আদালতে মামলা দায়ের করেন যা ঠাকুরগাঁও বিজ্ঞ সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে বিচারাধীন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, শনিবার সকালে আবু তালেব ও আব্দুল গফ্ফারসহ ১২জনের একটি দল হাতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঐ জমিটি জবর-দখল করার চেষ্টা করেন। এসময় খবর পেয়ে কৈলাশ চন্দ্র ঘটনাস্থলে গেলে আসামিরা তাকে দেখে হুমকী দিয়ে বলে তুই ভালোই ভালোই এই জমি ছেড়ে পরিবার নিয়ে ভারতে চলে যা। না হলে তার পরিবারের লোকজনকে হত্যা করে পুতে রাখা হবে। তাদের বিরুদ্ধে করা মামলা না তুলে নিয়ে ভুক্তভোগীর হাত-পা ভেঙ্গে চিরত্বরে পঙ্গু করে দেয়ারও হুমকি দেন তারা।

ভুক্তভোগী কৈলাশ চন্দ্র বর্মন বলেন, জমিটা আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি। আদালতে মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও জোর করে দখল নিতে এসেছে আবু তালেব, আব্দুল গফ্ফার ও নজরুল। তারা আমাকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। কখনো বলে জমি ছাড়ো, না হলে দেখে নেব। আবার কখনো বাড়ির সামনে এসে গালিগালাজ করে চলে যায়।

এমন কথা শোনার পর থেকে আমরা বাড়ি থেকে বের হতেও ভয় পাই। বর্তমানে আতঙ্কে আছি। কখন কী হয় বলা যায় না। আমরা আইনের ওপর ভরসা করি, তাই থানায় অভিযোগ করেছি। আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক, আর এই জমির বিষয়ে ন্যায়বিচার পাওয়া আমাদের একটাই দাবি।

এবিষয়ে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য বিশু মোহাম্মদ জানান, আমি দীর্ঘ দিন ধরে দেখে আসছি এই জমিটা কৈলাশের দখলে আছে। মাঝখানে একটু ঝামেলা হয়েছিল পরে ২০২১ সালে আদালতে একটি মামলা করা হয়। যেহেতু এই জমির মামলা চলমান তাহলে কেন আবু তালেবরা লোকজন নিয়ে দখল করতে আসতেছে। মামলার রায় আসুক, রায় যার পক্ষে যাবে তখন সে দখলে নিবে। হুট করে তারা কেন লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে আসলো?

তিনি আরও বলেন, আদালতের রায়ের মাধ্যমে সমাধান হওয়া উচিত। জোর করে জমি দখল কিংবা প্রাণনাশের হুমকি মেনে নেয়া যায় না। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে।

স্থানীয়দের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, আবু তালেবের বিরুদ্ধে আগে থেকেই নানা ধরনের অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বলেন, গ্রামে অনেক আগে থেকেই তার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন আর জমি দখলের অভিযোগ শোনা যায়। মাস কয়েক আগে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। পরে ঐ নারী তার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন ও দিনাজপুরে একটি মামলা করেন। এঘটনার পর বিএনপি কেন্দ্রীয় থেকে আবু তালেবকে আকচা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে বহিস্কার করেন। তার বিরুদ্ধে ইউনিয়নের লোকজন জেলা বিএনপির নেতাদের কাছে বহু অভিযোগও করেছে।

তারা আরও বলেন, আবু তালেব আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর আরও বেপোরোয়া হয়ে ওঠেন। আওয়ামী লীগের সাবেক চেয়ারম্যান সুব্রত কুমার বর্মনের ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, বাড়িঘর দেখাশোনার দায়িত্বও তিনি নিয়েছেন বলে এলাকায় শোনা যাচ্ছে। এমনও কথা ওঠেছে সরকার পতনের পর বিভিন্ন আওয়ামীলীগের নেতাদের কাছে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে তাদের আশ্রয় দেয়ার কথা বলে। যা তদন্ত করলে সবই বেড়িয়ে আসবে।

তবে অভিযোগ প্রসঙ্গে আবু তালেব, আব্দুল গফ্ফার ও নজরুল ইসলাম বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। জমিটি আমাদের ভোগদখলে রয়েছে। আমরা ক্রয় সূত্রে মালিক। আমাদের হয়রানি করার জন্য কিছু লোক রাজনৈতিকভাবে বিষয়টি কাজে লাগাচ্ছে। আমরা কারও জমি জবরদখল করতে যাইনি, কারও প্রতি হুমকি বা ভয়ভীতি প্রদর্শন করিনি।

তারা আরও বলেন, নারীর বিষয়ে কিংবা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও ভিত্তিহীন। এসব অভিযোগ সাজিয়ে আমাদের রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করা এবং ব্যক্তিগত বিরোধে জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই।

ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ারে আলম খান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিদর্শন করেছে। তদন্ত চলছে এবং প্রমাণ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর