স্টাফ রিপোর্টারঃ
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার রাজস্ব সার্কেলের অধীন আমিরাবাড়ী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সেবা নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। অভিযোগ উঠেছে, ঘুষ ও দালাল ছাড়া সেখানে কোনো কাজই এগোয় না। ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা পেতে দিনের পর দিন অফিসে ঘুরেও সমাধান না পেয়ে অবশেষে অনেকেই ঘুষ দিতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগের তীর উঠেছে আমিরাবাড়ী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি উন্নয়ন কর্মকর্তা শামসুজ্জামান শামিমের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন একই অফিসে কর্মরত থেকে তিনি একটি শক্তিশালী দালালচক্র গড়ে তুলেছেন। এসব দালালের মাধ্যমে নির্ধারিত অঙ্কের টাকা ছাড়া কোনো ফাইল নড়ে না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে আমিরাবাড়ী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন সেবা নিতে আসা মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী জানান, নামজারি, খারিজ, জমাভাগ কিংবা অন্যান্য ভূমি সংক্রান্ত কাজে আবেদন করতে গেলে প্রথমেই দালালদের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, দালালের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা দিলে অল্প সময়েই কাজ সম্পন্ন হয়। কিন্তু কেউ নিয়ম অনুযায়ী সরাসরি আবেদন করলে মাসের পর মাস ঘুরেও কোনো সমাধান পান না। অনেকেই অভিযোগ করেন, ভবিষ্যতে জমির কাগজপত্রে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কায় প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দুর্নীতির জন্য এখানে একটি কৌশলী পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। বিশেষ করে নামজারি বা খারিজের আবেদনকারীরা ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তদন্ত প্রতিবেদনে ইচ্ছাকৃত ভুল তথ্য পাঠানো হয়।
তারা জানান, সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ে পাঠানো প্রতিবেদনে জমির দাগ নম্বর ভুল লেখা, হোল্ডিং নম্বর নেই বলে উল্লেখ করা কিংবা তথ্য গোপন করার মতো ঘটনা ঘটানো হয়। ফলে এসিল্যান্ড অফিস আবেদন বাতিল করে দেয়।
পরে আবেদনকারী পুনরায় ভূমি অফিসে গেলে তাকে দালালের মাধ্যমে ‘স্যারকে ম্যানেজ’ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। নিরুপায় হয়ে অনেক সেবা প্রার্থী ঘুষ দিতে বাধ্য হন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আমিরাবাড়ী ইউনিয়ন বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প এলাকা হিসেবে পরিচিত। এলাকায় একাধিক শিল্প-কারখানা গড়ে উঠেছে এবং নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোক্তা জমি ক্রয় করছেন।
এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকদের সঙ্গে অভিযুক্ত কর্মকর্তার যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, কৃষকদের জমির কাগজপত্রে জটিলতার ভয় দেখিয়ে কম দামে জমি বিক্রিতে বাধ্য করা হয়। পরে ওই জমি শিল্প মালিকদের কাছে হস্তান্তরের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এতে কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, ভূমি অফিসে চলমান অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
সাধারণ জনগণ জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে সাধারণ মানুষ হয়রানি ও দুর্নীতির হাত থেকে রক্ষা পায় এবং ভূমি অফিসে স্বচ্ছ সেবা নিশ্চিত