মরার আগে প্রিয় নেতা তারেক রহমানের সঙ্গে একবার দেখা ও কথা বলতে চান সাহারুন খাতুন
রাশেদুজ্জামান রিমন, কুষ্টিয়া
আমার শেষ ইচ্ছে মরার আগে একনজর তারেক জিয়াকে দেখতে চাই, কথা কইতে চাই একটাবার।— এমন কথাই লেখা ছিল কুষ্টিয়ার কোর্ট স্টেশন চত্বরে বসে থাকা এক বৃদ্ধা নারীর হাতে ধরা ব্যানারে। তিনি কুষ্টিয়া সদর উপজেলার মধুপুর গ্রামের ষাটরোর্ধ্ব সাহারুন খাতুন। বুধবার (২৯ অক্টোবর) বুধবার দুপুরে তিনি স্টেশনে অবস্থান নেন। তার দাবি, মৃত্যুর আগে বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে একবার দেখা করবেন। দুপুরের দিকে কোর্ট স্টেশন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্ল্যাটফর্মের এক কোণে পাটি পেতে বসে আছেন সাহারুন খাতুন। পাশে রাখা তারেক রহমানের ছবি সংবলিত ব্যানার। তাকে ঘিরে উৎসুক জনতার ভিড়। সাহারুন খাতুন বলেন, আমি একবার লক্ষীপুরে জাকির সাহেবের মিটিংয়ে গেছিলাম। সেখানে তারেক জিয়ার নাম শুনে খুব ভালো লেগেছিল। তখন থেকেই মনে ইচ্ছা জেগেছে, মরার আগে একবার তার সঙ্গে দেখা করব আর দুটো কথা বলব। তিনি আরও জানান, সকাল ১০টা থেকেই তিনি স্টেশনে অবস্থান নিচ্ছেন। ছেলেমেয়েদের বলেই এসেছেন যে, জীবনের শেষ ইচ্ছে পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তিনি ফিরে যাবেন না। এদিকে, ওই বৃদ্ধার এমন দৃঢ়তা ও আবেগ দেখে অনেকেই মুগ্ধ হয়েছেন, কেউ কেউ আবার উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন। স্টেশনে উপস্থিত নাহিদ ইসলাম নামে এক যুবক বলেন, আমি বাইরে থেকে ঘুরতে এসে দৃশ্যটা দেখে অবাক হয়েছি। একেবারে সহজ-সরল ভাষায় তিনি বলেছেন, মৃত্যুর আগে শুধু তারেক জিয়ার সঙ্গে কথা বলতে চান। আমি চাই, তার এই ছোট্ট ইচ্ছেটা পূরণ হোক। বিষয়টি জানাজানি হলে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির নেতারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন, আমরা দলীয় অফিসে ছিলাম, খবর পেয়ে স্টেশনে যাই। তিনি (সাহারুন খাতুন) অনড় ছিলেন। পরে আমরা তাকে বুঝাই যে, তারেক রহমান বর্তমানে যুক্তরাজ্যে নির্বাচনী কার্যক্রম নিয়ে ব্যস্ত আছেন। এক মাস পর দেশে ফিরবেন, তখন ভিডিও কলে কথা বলার ব্যবস্থা করা হবে এমন আশ্বাস দিলে তিনি স্থান ত্যাগ করেন। জাকির হোসেন আরও বলেন, লক্ষীপুরে এক মহাসমাবেশে অংশ নিয়েছিলেন সাহারুন খাতুন। সেখানে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে নিয়ে আলোচনা হয়। সেখান থেকেই তার মনে এই ভালোবাসা জন্ম নেয়। তারেক রহমানের প্রতি এক প্রবীণ নারীর এমন অনুরাগ কুষ্টিয়া জুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে সাহারুন খাতুনের প্রতি সহমর্মিতা ও শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।








