শিরোনাম
টেকনাফে অসময়ে লাল-হলুদ তরমুজ, মাচায় চাষ করে লাভের স্বপ্ন চার বন্ধুর লবণাক্ত জমিতে ১০ লাখ টাকা বিনিয়োগ | ইতিমধ্যে বিক্রি এক লাখ টাকার তরমুজ, লাভের আশা ৬ লাখ তাড়াশে সত্যযুগ থেকে চলে আসা কালীপূজা, পাঠার মাংস খাওয়ার ঐতিহ্য কমলনগরে আলিফ হোটেলের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ, প্রতিবাদ মালিকের ঝিনাইগাতীর গারো পাহাড়ে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের উৎপাত, উত্তেজিত বন্যহাতি ভিউয়ের নেশায় হাতির পিছু নিচ্ছেন অনেকে, মানুষ-হাতি সংঘাতের আশঙ্কা ভেড়ামারায় গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষে সাফল্য, এক বিঘায় দুই লাখ টাকা লাভের আশা কৃষক রাজুর ১৭ বছর ধরে ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ, ৭ নভেম্বরের সত্য সংরক্ষণের আহ্বান হুমাম কাদের চৌধুরীর গজারিয়ায় চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় যুবদল নেতাসহ ৪ জনকে মারধরের অভিযোগ, আটক ১ রামগতিতে ​স্বামীর ঘর ছেড়ে নোটারির মাধ্যমে প্রেমিকের সংসারে প্রিয়া গজারিয়া প্রেসক্লাবের নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক শেখ নজরুল ইসলাম সোনারগাঁয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযানে শ্রমিকলীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ১৫
রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৩৭ অপরাহ্ন

তাড়াশে সত্যযুগ থেকে চলে আসা কালীপূজা, পাঠার মাংস খাওয়ার ঐতিহ্য

প্রতিবেদকের নাম / ৩০ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬

ফিরোজ আল আমিন

নিজস্ব প্রতিনিধি:

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী কালীপূজাকে কেন্দ্র করে জমে উঠেছে পাঠার মাংসের বাজার। প্রতিবছরের মতো এবারও তাড়াশ পৌর বাজারে পাঠার মাংস কেনাবেচায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বিক্রেতারা। ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে গড়ে ওঠা এ আঞ্চলিক রেওয়াজে অংশ নিচ্ছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মের মানুষও।

রবিবার (৮ নভেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় প্রথাগত রীতি অনুযায়ী পাঠাবলির মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে কালীপূজা। এ উপলক্ষে তাড়াশ পৌর বাজার এলাকায় বসেছে ৮ থেকে ১০টি অস্থায়ী পাঠার মাংসের দোকান। এসব দোকানে শুধু কালীপূজার দিনই পাঠার মাংস বিক্রি করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের মতে, কালীপূজাকে কেন্দ্র করে পাঠার মাংস কেনা ও খাওয়ার এ রেওয়াজ দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। এ উৎসবকে ঘিরে বাজারে বাড়তি ক্রেতার সমাগম ঘটেছে। কেউ ধর্মীয় ঐতিহ্য অনুসরণ করে, আবার কেউ শখের বশে পাঠার মাংস কিনছেন।

পৌর এলাকার মাংস বিক্রেতা আপেল মাহমুদ বলেন, “কালীপূজা উপলক্ষে এবার বাজারে প্রায় ১০টি অস্থায়ী দোকান বসেছে। এসব দোকানে শতাধিক পাঠার মাংস বিক্রি হবে বলে আশা করছি। সাধারণত ছাগলের পাঠার মাংসের চাহিদা বেশি থাকে। তবে ভেড়ার পাঠার মাংসও বিক্রি হয়।”

পাঠার মাংস কিনতে আসা পৌর সদরের বাসিন্দা সুকুমার বলেন, “প্রতি বছর কালীপূজা উপলক্ষে বাজারে এভাবে পাঠার মাংস বিক্রি হয়। অন্য বছরের মতো এবারও মাংস কিনতে এসেছি। তবে এবার দাম কিছুটা বেশি।”

মাংস বিক্রেতা মফিজ জানান, গত বছরের তুলনায় এবার বাজারে পাঠার দাম বেশি হওয়ায় মাংসের দামও বেড়েছে। তারপরও ক্রেতাদের চাহিদা বেশ ভালো। বর্তমানে প্রতি কেজি পাঠার মাংস ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

তাড়াশ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আশুতোষ সান্যাল বলেন, “কালীপূজা অত্যন্ত প্রাচীন একটি ধর্মীয় উৎসব। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, সত্যযুগ বা সৃষ্টির প্রারম্ভ থেকেই এ পূজার প্রচলন রয়েছে। তাড়াশ পৌরসভা ও উপজেলার আটটি ইউনিয়নেই কালীপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে এলাকাবাসীর সনাতনী ভক্তি ও ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে তাড়াশ মহাশ্মশানে অনুষ্ঠিত বার্ষিক কালীপূজাটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।”

কালীপূজায় পাঠার মাংস খাওয়ার রেওয়াজ সম্পর্কে তিনি বলেন, “ধর্মীয় শাস্ত্রে পাঠার মাংস খাওয়ার বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো বিধান নেই। এটি মূলত একটি আঞ্চলিক রেওয়াজ, যা জমিদার আমল থেকে চলে আসছে। কথিত আছে, এ দিনে পাঠার মাংস খেলে বাত বা বাতব্যথার উপকার হয়। এ বিশ্বাস থেকেই জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে অনেকেই পাঠার মাংস খেয়ে থাকেন।”

ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, স্থানীয় বিশ্বাস ও দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের সমন্বয়ে তাড়াশে কালীপূজাকে ঘিরে পাঠার মাংস কেনাবেচা এখন এক পরিচিত সামাজিক সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। প্রতিবছর এ উৎসবকে কেন্দ্র করে পৌর বাজারে বাড়তি প্রাণচাঞ্চল্য দেখা যায়।

Share this news as a Photo Card


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
08 November 2026

তাড়াশে সত্যযুগ থেকে চলে আসা কালীপূজা, পাঠার মাংস খাওয়ার ঐতিহ্য

www.dainikkagoj.com
08 November 2026

তাড়াশে সত্যযুগ থেকে চলে আসা কালীপূজা, পাঠার মাংস খাওয়ার ঐতিহ্য

www.dainikkagoj.com