বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:১২ অপরাহ্ন
শিরোনাম
লংগদুতে নেটওয়ার্ক ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন দূর্গম ভোটকেন্দ্র সমূহ পরিদর্শনে ইউএনও  মোহনগঞ্জে বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের প্রতিবাদে ভুক্তভোগী সংবাদ সম্মেলন রায়গঞ্জে ট্রাক চাপায় বৃদ্ধার মৃত্যু  খাগড়াছড়িতে ইয়াকুব আলী চৌধুরীকে হত্যার চেষ্টা নিন্দা ও প্রতিবাদ সিএইচটির খাগড়াছড়িতে সাংবাদিকদের নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ এনসিপি নেতার আবেদনে সিংড়া পৌরসভা পেল ৪০ লক্ষ টাকার বরাদ্দ হাটিকুমরুল প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন: সভাপতি জাকির, সম্পাদক মোর্শেদ সিংড়ার গ্রাম-গঞ্জে কম্বল বিতরন করছেন ইউএনও  বারবার একই ব্যক্তির প্রশিক্ষণ, বঞ্চিত অভিজ্ঞ সাংবাদিকরা : বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের প্রশিক্ষণ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন হাতীবান্ধা সীমান্তে বিজিবি’র নতুন বিওপি উদ্বোধন

সিরাজগঞ্জে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী যুবক হত্যা: বোনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড রক্ষায় নির্মম খুন, গ্রেপ্তার ৬

Reporter Name / ৮৯ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর, ২০২৫

ফিরোজ আল আমিন 

নিজস্ব প্রতিনিধি:

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রাঘাটে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী যুবক শামীম ইসলাম (২৪) হত্যাকাণ্ডের নৃশংস ঘটনাটি উদঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই মামলায় নিহতের আপন বোনসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ঘটনার শুরু

গত ২ জুলাই বিকেলে শামীম বাসা থেকে গোসলের উদ্দেশ্যে বের হয়। কিন্তু রাত পেরিয়ে গেলেও সে আর ফিরে আসেনি। দুই দিন পর ৪ জুলাই সকালে কামারখন্দের এসিআই মিল সংলগ্ন একটি পুকুর থেকে তার গলায় গামছা প্যাঁচানো, এসিডে দগ্ধ ও আংশিক গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা রুজু হয়।

তদন্তে নাটকীয় মোড়

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে কোনো অগ্রগতি না হলেও, কয়েক মাস পর প্রযুক্তির সহায়তায় এক আসামির মোবাইল মেসেজ থেকে হত্যার ক্লু মেলে। সেখানে হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা উঠে আসে। এ সূত্র ধরে চৌকস ডিবি টিম ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তাররা হলো

১. রেশমা খাতুন (২৫) [নিহতের বোন],

২. মোছা. হাবিজা খাতুন (৪২),

৩. গোলাম মোস্তফা (৫৫),

৪. সুমন চন্দ্র ভৌমিক (২৮),

৫. তপু সরকার (১৯),

৬. শফিকুল ইসলাম (৪০)

হত্যার পেছনের চাঞ্চল্যকর কারণ

ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে ভয়াবহ সত্য। নিহতের বোন রেশমা স্থানীয়ভাবে দেহ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল। একদিন ভাই শামীম তার অনৈতিক কর্মকাণ্ড দেখে ফেলে। এতে রেশমা এবং তার সহযোগীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে তারা পরিকল্পিতভাবে শামীমকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয়।গত ২ জুলাই রাতে তাকে কৌশলে আটকানো হয়। এরপর রেশমা ও তার সহযোগীরা শ্বাসরোধ, এসিড নিক্ষেপ ও ছুরি দিয়ে আঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করে লাশ পুকুরে ফেলে দেয়।

স্বীকারোক্তি ও পুলিশি পদক্ষেপ

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে চারজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। পুলিশ বলছে, এটি ছিল পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড রক্ষার জন্য সংঘটিত একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. ফারুক হোসেন বলেন, “এটি একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড। আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতে স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়েছে। আমরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে কাজ করছি।

জনমনে প্রতিক্রিয়া

একজন বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী যুবককে এভাবে হত্যা এবং তাতে তার নিজের বোনের সংশ্লিষ্টতা জানাজানি হওয়ার পর পুরো এলাকায় চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এটি মানবতার জন্য এক বেদনাদায়ক ও নিন্দনীয় ঘটনা।

সিরাজগঞ্জে শামীম হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারের ট্র্যাজেডিই নয়, বরং মানবিক অবক্ষয় ও নৈতিক সঙ্কটের করুণ উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর