ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার জামুরিয়া মডেল ইউনিয়নে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার চায়ের দোকান, বাজার ও জনসমাগমস্থলে সম্ভাব্য প্রার্থীদের যোগ্যতা, সামাজিক কর্মকাণ্ড, জনসম্পৃক্ততা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।
স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে এনায়েত করীমের নামও আলোচনায় রয়েছে। তাঁর সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড এবং উদ্যোক্তা হিসেবে কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের একটি অংশের মধ্যে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে কারা প্রার্থী হবেন এবং ভোটারদের সমর্থন কার দিকে যাবে, তা সময়ের সঙ্গে আরও স্পষ্ট হবে।
তৃণমূল পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন এনায়েত করীম। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে। তিনি মমরেজ গলগোন্ডা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি এবং মমরেজ গলগোন্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এ ছাড়া তিনি একজন উদ্যোক্তা হিসেবেও কাজ করছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শত শত মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। স্থানীয়দের মতে, কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে তিনি বেশ কিছু পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন।
এনায়েত করীমের ঘনিষ্ঠজনরা জানান, সামাজিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি এলাকার সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রয়োজনের বিষয়েও তিনি খোঁজখবর রাখেন। বিশেষ করে অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টি তাঁর কর্মকাণ্ডের অন্যতম দিক বলে তারা দাবি করেন।
তবে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার বিষয়ে এনায়েত করীম নিজে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি জামুরিয়া মডেল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হতে বেশি মনোযোগী নই। আমি চাই, আমার ইউনিয়নের সুবিধাবঞ্চিত, অভাবী ও নিরন্ন মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে। কেউ যেন অনাহারে বা অর্ধাহারে না থাকে—এ বিষয়টি নিয়েই আমি বেশি চিন্তিত।”
তিনি আরও বলেন, “আগামী নির্বাচনে জামুরিয়া মডেল ইউনিয়নের মানুষ যদি মনে করেন চেয়ারম্যান পদে আমার প্রার্থী হওয়া উচিত, তাহলেই আমি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।”
এদিকে নির্বাচন সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা বাড়ছে। ভোটারদের কেউ প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডকে গুরুত্ব দিচ্ছেন, আবার কেউ এলাকার উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রার্থীদের পরিকল্পনা জানতে চাইছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত যিনি প্রার্থী হবেন, তাঁর ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি, জনসম্পৃক্ততা, এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্যতাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। ফলে জামুরিয়া মডেল ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের ঘিরে তৃণমূলের এই আলোচনা নির্বাচনের তফসিল ও প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও জোরালো হতে পারে।