— যাদব চন্দ্র রায়
একটি দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি তার তরুণ প্রজন্ম। কারণ তরুণদের মধ্যেই থাকে স্বপ্ন দেখার সাহস, পরিবর্তন আনার শক্তি এবং নতুন কিছু সৃষ্টির অদম্য ইচ্ছা। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ তরুণ, আর এই বিশাল জনগোষ্ঠীই হতে পারে উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের প্রধান চালিকাশক্তি।
বর্তমান বিশ্বে যে দেশগুলো উন্নতির শিখরে পৌঁছেছে, তাদের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান ছিল তরুণদের। বাংলাদেশের তরুণরাও আজ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখছে। তথ্যপ্রযুক্তি, ফ্রিল্যান্সিং, স্টার্টআপ, ই-কমার্স ও উদ্ভাবনী খাতে তরুণদের অংশগ্রহণ দেশের অর্থনীতিকে নতুন সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে নিচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসে বাংলাদেশি তরুণরা দক্ষতার মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে, যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
শুধু প্রযুক্তি বা অর্থনীতিতেই নয়, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতেও তরুণদের ভূমিকা প্রশংসনীয়। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, মাদকবিরোধী আন্দোলন এবং নারী অধিকার রক্ষায় তরুণদের বিভিন্ন সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে। তাদের সাহসী অংশগ্রহণ প্রমাণ করে, তারা কেবল নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়েই ভাবছে না; বরং একটি সুন্দর সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্নও দেখছে।
সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় আন্দোলনে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ দেখিয়েছে যে তারা আর নীরব দর্শক নয়। তারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে জানে এবং গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের প্রশ্নে সোচ্চার হতে পারে। একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনে তরুণদের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তবে তরুণদের এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে রাষ্ট্র ও সমাজকে তাদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। মুখস্থনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তে কর্মমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা চালু করা জরুরি। পাশাপাশি দক্ষ তরুণদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। যারা উদ্যোক্তা হতে চায়, তাদের সহজ শর্তে ঋণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে হবে।
এছাড়াও নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে তরুণদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। কারণ তরুণদের চিন্তা-ভাবনা আধুনিক, বাস্তবমুখী এবং ভবিষ্যতমুখী। তাদের নেতৃত্বের বিকাশ ঘটাতে পারলে দেশ আরও দ্রুত এগিয়ে যাবে।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার তরুণ সমাজ। সঠিক দিকনির্দেশনা, শিক্ষা ও সুযোগ পেলে এই তরুণরাই দেশকে একটি উন্নত, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করতে সক্ষম হবে। তাই তরুণদের শক্তিকে অবহেলা নয়, বরং তাদের সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশ ঘটানোই হোক আমাদের অঙ্গীকার।