শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০২:০৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম
সাতকানিয়ার দক্ষিণ ঢেমশা চৌমুহনী উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা  ময়মনসিংহ পুলিশ লাইন্স উচ্চ বিদ্যালয়, এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা ও বার্ষিক মিলাদ মাহফিল-২০২৬ অনুষ্ঠিত” সান্তাহারে বিহঙ্গ শিল্পী গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন  গ্রিসে পাঠানোর প্রলোভন: ২৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে লিবিয়ায় আটকে নির্যাতন, দেশে ফিরলেন দুই যুবক সিরাজগঞ্জে চাচাদের হামলায় ৫ বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু ইয়ারিংছড়ি সেনামৈত্রী উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও নবীন শিক্ষার্থীদর বরণ অনুষ্ঠিত  গোপালগঞ্জে পাসপোর্ট সেবায় ধস: লোডশেডিংয়ে থমকে কাজ, ভোগান্তিতে সেবাপ্রত্যাশী লালমোহনে স্পিকার মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে নাগরিক সংবর্ধনা খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে সিন্দুকছড়ি জোন আয়োজনে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও মেডিকেল চক্ষু ক্যাম্পেইন  তাড়াশে ধান ক্ষেত থেকে এক ব্যক্তির রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার

ভাঙ্গুড়ায় ভুয়া শাখায় ৫ শিক্ষক নিয়োগ,দেড় কোটি টাকা সরকারি তহবিল লুট

Reporter Name / ৩২৮ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

 

 

মো: গোলাম রাব্বি (পাবনা) জেলা প্রতিনিধি

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার ভাঙ্গুড়া জরিনা রহিম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভুয়া শাখা দেখিয়ে পাঁচজন শিক্ষক দীর্ঘ এক যুগ ধরে চাকরি করেছেন। এ সময়ে তারা সরকারি কোষাগার থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা বেতন তুলেছেন। সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্তে এ অনিয়মের প্রমাণ মেলে।

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড যাচাই করে জানায়, বিদ্যালয়ের অতিরিক্ত শাখার অনুমোদনের কাগজপত্র সম্পূর্ণ ভুয়া। এ ঘটনায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরকে (মাউশি) সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের এমপিও সুবিধা বন্ধ এবং নিয়োগদাতা প্রধান শিক্ষক শওকত আলীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

বিদ্যালয়টি ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯৭-৯৮ সালে তৎকালীন প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী কিছু শাখার প্রাথমিক অনুমতি নিয়ে শিক্ষক নিয়োগ দেন। তবে অবসরে যাওয়ার আগে শাখাগুলোর চূড়ান্ত অনুমোদন নিশ্চিত করতে পারেননি। ২০০৪ সালে নতুন প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন মো. শওকত আলী। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিয়োগ বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে ১৯৯৫ ও ১৯৯৬ সালের রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের ভুয়া অনুমোদনপত্র তৈরি করেন।

এর ভিত্তিতে ২০১২ সালে বিএম গুলজার হোসেন ও রেজাউল করিম এবং ২০১৪ সালে নওশাদুল ইসলাম, একরাম হোসাইন ও সিদ্দিকুর রহমান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। প্রথমদিকে জেলা শিক্ষা অফিস তাদের এমপিও আটকে দিলেও পরে নানা তদবির ও প্রভাব খাটিয়ে এমপিও সুবিধা নেন তারা। ফলে দীর্ঘ এক যুগে সরকারি কোষাগার থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা বেতন তোলা হয়েছে।

বিতর্কিত প্রধান শিক্ষক

দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৭ সালে শওকত আলীকে ম্যানেজিং কমিটি প্রধান শিক্ষক পদ থেকে বহিষ্কার করে। তবে মামলার জটিলতা শেষে চলতি বছরের মে মাসে আদালতের মাধ্যমে তিনি পুনর্বহাল হন। তার বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগ ওঠায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় তদন্তে নামে। তদন্তে ভুয়া অনুমোদনপত্রের সত্যতা নিশ্চিত করেছে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড।

অভিযোগ প্রসঙ্গে ভুয়া শাখায় নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক নওশাদুল ইসলাম বলেন, “আমাদের কিছু বলার নেই, যা বলার প্রধান শিক্ষক বলবেন।”

প্রধান শিক্ষক শওকত আলী দাবি করেন, “মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা এলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তবে তিনি দায় চাপান সাবেক প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলীর ওপর।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুন নাহার বলেন, “মন্ত্রণালয়ের চিঠি পেয়েছি। ম্যানেজিং কমিটির মিটিং-এর মাধ্যমে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর