আশরাফুল ইসলাম রনজু, তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি:
রাজশাহীর তানোরে যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় আদিবাসী সংগঠনগুলোর যৌথ উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে তানোর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল— “আদিবাসী নারীদের সম্মান: জীবন ও সুস্থতা সুরক্ষায় তাদের অবদান।”
কর্মসূচির শুরুতে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসে শেষ হয়। এতে স্থানীয় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষ ঐতিহ্যবাহী পোশাকে অংশ নেন। এ সময় বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন তানোর উপজেলার পারগানা শ্রী সুরেশ টুডু।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো. মুজিবুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মো. মুজিবুর রহমান বলেন, “আদিবাসীরা এ দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য আমাদের জাতীয় সম্পদ। আদিবাসী নারীরা পরিবার থেকে শুরু করে সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাদের অধিকার সুরক্ষা ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় সরকার ও সমাজকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাঈমা খান, তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ পারভেজ, জাতীয় আদিবাসী ফোরাম রাজশাহী জেলা শাখার সহকারী সেক্রেটারি এবং বিভিন্ন আদিবাসী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন আদিবাসী ফোরামের সংগঠন ও প্রচার সম্পাদক মো. আনিসুর রহমান, তানোর আদিবাসী ফোরামের সম্পাদক শ্রী সর্পনাথ দাস, শ্রী গণেশ চন্দ্র কিস্কু প্রমুখ।
বক্তারা আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার, ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং বিশেষ করে নারীদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে আদিবাসী নারীদের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে অবদানকে যথাযথভাবে মূল্যায়নের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন আদিবাসী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। আলোচনা সভা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।