সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক কোষাধ্যক্ষ ও ব্যবসায়ী আব্দুল ওহাব ভূঁইয়া স্বপন অভিযোগ করেছেন, তাকে আওয়ামী লীগের দোষর আখ্যা দিয়ে অপপ্রচার চালিয়ে তার জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে উপজেলার কাঁচপুর এলাকায় নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ অভিযোগ তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আব্দুল ওহাব ভূঁইয়া স্বপন বলেন, সাদিপুর ইউনিয়নের নয়াপুর বাজার এলাকায় তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পাশের ২৭ শতাংশ জমি তিনি বৈধভাবে ক্রয় করে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে রয়েছেন। সম্প্রতি ওই জমি বিক্রির জন্য জামপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুন নূর এবং স্থানীয় বিএনপি নেতা পনির হোসেন মিন্টুসহ কয়েকজন তার ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। তিনি জমি বিক্রিতে রাজি না হওয়ায় পরিকল্পিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও কয়েকটি অনলাইন পোর্টালে তাকে আওয়ামী লীগের দোষর হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন।
তিনি দাবি করেন, একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে তোলা ছবি ব্যবহার করে তাকে আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। ব্যবসায়ী হিসেবে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তির সঙ্গে তার সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক থাকলেও সেটিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আব্দুল ওহাব আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত আব্দুন নূরের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যার একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি স্থানীয় কিছু বিএনপি নেতার সঙ্গে আঁতাত করে এলাকায় নিরীহ মানুষের জমি দখলের চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে কাঁচপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সেলিম হক রুমি বলেন, আব্দুল ওহাব ভূঁইয়া স্বপন কাঁচপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক কোষাধ্যক্ষ এবং দলের পরীক্ষিত নেতা। তাকে আওয়ামী লীগের দোষর হিসেবে প্রচার করার বিষয়টি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হাস্যকর বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আব্দুন নূর অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট জমির সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। স্বপন তার আত্মীয় এবং বিএনপি নেতা পনির হোসেন মিন্টুর সঙ্গে স্বপনের জমি-সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে এ ঘটনায় জড়ানো হচ্ছে এবং পুলিশি হয়রানির উদ্দেশ্যে তার নাম ব্যবহার করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।