মো. শাহ আলম, সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
দেশের বৃহত্তম বিল চলনবিল—সিরাজগঞ্জ, নাটোর ও পাবনা জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে গড়ে ওঠা এই জলাভূমি বর্ষা মৌসুমে যেন রূপ নেয় এক অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের রাজ্যে। মৎস্য ও শস্যভান্ডার হিসেবে পরিচিত চলনবিল এবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে আগাম ফুটে ওঠা লাল-সাদা শাপলার সমারোহে।
সাধারণত শরৎকালে চলনবিলজুড়ে শাপলার নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখা যায়। তবে এবার শ্রাবণের শুরুতেই বিলের বুকজুড়ে ফুটেছে অসংখ্য লাল ও সাদা শাপলা। ফলে প্রতিদিন ভোর থেকে বিলের বিভিন্ন এলাকায় শাপলা তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন দর্শনার্থীরাও।
বর্ষা মৌসুমে চলনবিল এলাকার অনেক খেটে খাওয়া মানুষ কৃষিকাজ বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েন। এবার আগাম শাপলা ফুটে ওঠায় তাদের জন্য সৃষ্টি হয়েছে নতুন আয়ের সুযোগ। ভোরে ডিঙি নৌকা নিয়ে বিলে গিয়ে কচি শাপলা সংগ্রহ করে আঁটি বেঁধে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করছেন তারা। তরকারি হিসেবে শাপলার চাহিদা থাকায় প্রতিদিনই ভালো বিক্রি হচ্ছে।
তাড়াশ উপজেলার নাদো সৈয়দপুর বিন্নাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা সাদেক আলী (৪৫) বলেন, “বর্ষার সময় আমাদের তেমন কোনো কাজ থাকে না। এবার আগেভাগেই বিলে শাপলা ফুটেছে। প্রতিদিন ভোরে নৌকা নিয়ে বিলে যাই, দুপুর পর্যন্ত শাপলা তুলে ধামাইচ বাজার ও গুরুদাসপুর বাজারে বিক্রি করি। প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা আয় হয়। এই দুর্যোগের দিনে শাপলাই আমাদের সংসারের ভরসা।”
শাপলা শুধু জীবিকার উৎস নয়, তরুণদের কাছেও এটি আনন্দের অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে। এইচএসসি পরীক্ষার কারণে কলেজ বন্ধ থাকায় বন্ধুদের সঙ্গে ডিঙি নৌকায় করে শাপলা তুলতে আসেন শিক্ষার্থী আলী হাসান। তিনি জানান, বিল থেকে তোলা কচি শাপলা তেঁতুলের টক দিয়ে মেখে খাওয়ার আনন্দই আলাদা।
একদিকে প্রকৃতির মোহনীয় সৌন্দর্য, অন্যদিকে অভাবী মানুষের জীবিকার অবলম্বন—দুইয়ের অনন্য মেলবন্ধনে এখন উৎসবের আবহ বিরাজ করছে চলনবিলজুড়ে। বর্ষার অপরূপ রূপে সেজে ওঠা এই ঐতিহ্যবাহী বিল যেন প্রকৃতি ও মানুষের সহাবস্থানের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।