মোখলেছুর রহমান ধনু
রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চর ডাক্তার গ্রামে জমির সীমানা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিপক্ষের হামলায় নারীসহ অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
গত ২৪ জুন রামগতি পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চর ডাক্তার গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুজনগ্রাম মৌজার ১০০৪২ ও ১০০৬৩ দাগের জমি নিয়ে স্থানীয় সাহাব উদ্দিনের পক্ষের সঙ্গে মো. আবদুল গনি (৮০) পরিবারের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। আদালতে মামলা খারিজ হওয়ার পর আবদুল গনির ছেলে ওই জমিতে পাকা ঘর নির্মাণ ও ছাদ ঢালাইয়ের কাজ শুরু করেন। এ সময় সাহাব উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল লোক অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
হামলায় ধারালো অস্ত্র, ছেনি ও লোহার রডের আঘাতে তৈয়ব আলী (৬২), মো. ইব্রাহিম (২৫), মো. রুবেল খান, মনোয়ারা বেগম, মো. রাসেল, মো. আশিক, মাজেদা বেগম, আমেনা বেগম, বিবির রাবেয়া, রবিউল ইসলাম খান ও নুর মমিন আহত হন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা নির্মাণাধীন ভবনের মালামাল ও একটি মিক্সার মেশিন ভাঙচুর করে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি করে। এছাড়া ঘর থেকে নগদ ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা, মোবাইল ফোন, তিন ভরি স্বর্ণালঙ্কারসহ প্রায় পৌনে তিন লাখ টাকার বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
আহতদের প্রথমে রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তৈয়ব আলী ও মো. ইব্রাহিমকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. আবদুল গনি বাদী হয়ে ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করে রামগতি থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
তবে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবার হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।