সুফলভোগীদের কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ প্রকল্প পরিচালক ও মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে
জেলা প্রতিনিধি সিরাজগঞ্জ:
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে “দেশের একমাত্র সমাজভিত্তিক মৎস্যচাষ প্রকল্প ” সমাজভিত্তিক মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের সুফলভোগীদের মাছ চাষের জন্য বরাদ্দের অর্থ অত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে নিমগাছি সমাজভিত্তিক মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের পরিচালক (অতি. দা.) মো. শহীদুল ইসলাম ও তাড়াশ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের সদ্য বদলিকৃত মৎস্য কর্মকর্তা মো. মসগুল আজাদের বিরুদ্ধে। বিশেষ করে সুফলভোগীদের ৭৬ পাতা ফাঁকা চেকে স্বাক্ষর রেখে সুফলভোগীদের জিম্মি করে ১ কোটি ৫৪ লাখ ৯০ হাজার টাকার জলাশয় নিজেরাই সংস্কার করেন এই দুই কর্তা ব্যক্তি।এদিকে প্রকল্পের আওতায় ৫১ লাখ টাকার পোনা মাছ, খাদ্য ও উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে অতি সামান্য পরিমাণ। ৪০ লাখ টাকার মাছ প্রক্রিয়াকরণ স্টেইনলেস স্টিলের বাক্স দেওয়া হয়নি।নিমগাছি সমাজভিত্তিক মৎসসম্পদ ব্যবস্থাপনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে সমাজভিত্তিক মৎসসম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় সুফলভোগীদের ১৯টি জলাশয় সংস্কারের জন্য ১ কোটি ৫৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয় মৎস্য অধিদপ্তর। ৪০টি পুকুরে কার্প জাতীয় মাছের মিশ্র চাষের জন্য বরাদ্দ দেয় ৩৩ লাখ টাকা। ১২টি পুকুরে প্রদর্শনী বাবদ বরাদ্দ দেয় ১৮ লাখ টাকা। মাছ প্রক্রিয়াকরণ স্টেইনলেস স্টিলের বাক্সের জন্য বরাদ্দ দেয় ৪০ লাখ টাকা।
ভুক্তভোগী বারুহাস ইউনিয়নের কাজিপুর গ্রামের কাজিপুর উত্তর পুকুর সংস্কার কাজের সভাপতি আছমত আলী, দেশীগ্রাম ইউনিয়নের দেশীগ্রামের আলমাগাড়ী পুকুরের ক্যাশিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন, দেশীগ্রাম বেদের পুকুরের সভাপতি শহিদুল ইসলাম, দেশীগ্রাম ভিমদেশী পুকুরের সভাপতি আমজাদ হোসেন, দেশীগ্রাম কান পুকুরের সভাপতি ইদ্রিস আলী ও সেক্রেটারি মো. নোবা বলেন, পুকুর সংস্কারের শুরুতে পুকুরের সভাপতি ও সেক্রেটারির যৌথ নামে ১৯টি পুকুরের জন্য আলাদা একাউন্ট খোলা হয় সোনালী ব্যাংক লিমিটেড তাড়াশ শাখায়। আমরা চেকের জন্য আবেদন করি। আমাদের চার পাতা করে চেক দেওয়া হয়। মৎস্য কর্মকর্তা মো. মসগুল আজাদ ১৯টি পুকুরের ১৯ জন সভাপতি ও ১৯ জন সেক্রেটারিকে একদিনে তার অফিসে ডেকে নেয়। পরে ১৯টি পুকুর সংস্কারের চার কিস্তির বিল উত্তোলনের জন্য মোট ৭৬ পাতা বø্যাংক চেকে স্বাক্ষর নিয়ে চেকগুলো তার কাছে রেখে দেন। আমাদের নামে একাউন্ট, টাকার ম্যাসেজ আসে আমাদের মোবাইল নাম্বারে। অথচ, ১৯টি পুকুরের অনুক‚লে বরাদ্দের ১ কোটি ৫৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে। ১ম কিস্তি ও ২য় কিস্তির ৮২ লাখ ৮৮ হাজার টাকায় পুকুর সংস্কারের কাজ সম্পূর্ণ হয়ে যায়। বাকি টাকা সংশ্লিষ্টরা আত্মসাৎ করেছেন।
সুফলভোগী সদস্যরা জানিয়েছেন, কার্প জাতীয় মাছের মিশ্র চাষ ও প্রদর্শনী সুবিধা পাওয়ার কথা ৫২টি পুকুরে। অথচ, মাত্র ১৫টি পুকুরে স্বল্প পরিমাণে মাছের পোনা, খাদ্য, সার ও ১টি করে তথ্য বোর্ড দেওয়া হয়েছে। মাছ প্রক্রিয়াকরণের স্টেইনলেস স্টিলের বাক্স কেউ পান নি। সুফলভোগীদের সর্বোচ্চ ১২ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়া হয়েছে। ৭৮ লাখ ৬২ হাজার ৫০০ টাকা সমাজভিত্তিক মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের পরিচালক (অতি. দা.) মো. শহীদুল ইসলাম ও তাড়াশ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের সদ্য বদলিকৃত মৎস্য কর্মকর্তা মো. মসগুল আজাদ আত্মসাৎ করেছেন।বিশস্ত সূত্রে জানা গেছে, তাড়াশ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের সদ্য বদলিকৃত মৎস্য কর্মকর্তা মো. মসগুল আজাদ নিজের বদলি করিয়ে নেন নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির দায় থেকে বাঁচতে। সুফলভোগীদের তোপের মুখে রাতের মধ্যভাগে তাড়াশ ছাড়তে বাধ্য হোন তিনি।সদ্য বদলিকৃত তাড়াশ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মসগুল আজাদ বলেন, অভিযোগ সত্য নয়। বিধি মোতাবেক মৎস্য অধিদপ্তর ঢাকা মৎস্য ভবনে বদলি হয়েছে আমার।
প্রতিবেদকের সাথে সাক্ষাতে নিমগাছি সমাজভিত্তিক মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের পরিচালক (অতি. দা.) মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ৪০টি পুকুরে কার্প জাতীয় মাছের মিশ্র চাষের জন্য বরাদ্দের ৩৩ লাখ টাকা ও ১২টি পুকুরে প্রদর্শনী বাবদ বরাদ্দের ১৮ লাখ টাকার পোনা মাছ, খাদ্য, সার ও উপকরণ আমি বিতরণ করেছি। তার এনড্রয়েড ফোন থেকে বিতরণের একটি ছবি দেখান। তিনি স্বীকার করেন, ৪০ লাখ টাকার স্টেইনলেস স্টিলের বাক্স এখনো সুফলভোগীদের দেওয়া হয় নি। তৈরি করে অফিসে রাখা হয়েছে। বাস্তবে তার অফিসে কোনো বাক্সের দেখা মেলে নি।তিনি স্বীকার করেন, জলাশয় সংস্কার থেকে সামান্য টাকা পেয়েছেন। এসব টাকা ঊর্দ্ধতনদের দিতে হয়। বিশেষ করে সুফলভোগীদের মাঝে মাছের পোনা, খাদ্য, সার ও উপকরণ বিতরণের তালিকা দেখাতে পারেন নি তিনি। তাড়াশ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতি. দা.) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, আগের মৎস্য কর্মকর্তার বদলির পর আমি কয়েকদিন অফিস করেছি। এসবের কিছুই জানি না।
এ প্রসঙ্গে সিরাজগঞ্জ জেলা মৎস্য কার্যালয়ের জেলা মৎস্য কর্মর্কতা মো. শাহীনুর রহমান বলেন, সংবাদ প্রকাশ হলে ইমেজ নষ্ট হবে আমাদের। তিনি এ সংবাদটি প্রকাশ না করতে অনুরোধ করেন।








