বুলবুল আহম্মেদ (বুলু)
বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি
প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার, সততা এবং কঠোর পরিশ্রমকে পুঁজি করে অনলাইনভিত্তিক আম বিক্রিতে সফলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার তরুণ উদ্যোক্তা এস এম মোস্তাকিম। ফেসবুকভিত্তিক ই-কমার্স উদ্যোগ ‘বদলগাছী ম্যাংগো সেল বাজার’-এর মাধ্যমে তিনি দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছেও নিরাপদ ও কেমিক্যালমুক্ত আম পৌঁছে দিয়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন।
বাংলাদেশের অন্যতম আম উৎপাদনকারী জেলা নওগাঁ। প্রতিবছর এখানকার বিভিন্ন জাতের সুস্বাদু আম দেশজুড়ে ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি করে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে কয়েক বছর আগে অনলাইনে আম বিক্রির উদ্যোগ নেন মোস্তাকিম। শুরুতে সীমিত পরিসরে কাজ শুরু করলেও বর্তমানে তাঁর উদ্যোগটি একটি পরিচিত ও বিশ্বাসযোগ্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।
এ বছর তিনি নিজের বাগানে উৎপাদিত নাগ ফজলি, আম্রপালি, ব্যানানা জাতসহ বিভিন্ন জনপ্রিয় জাতের আম অনলাইনের মাধ্যমে অর্ডার গ্রহণ করে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করছেন। বাগান থেকে সরাসরি সংগ্রহ করে উন্নত মানের প্যাকেজিংয়ের মাধ্যমে ক্রেতাদের কাছে আম পৌঁছে দেওয়ায় তাঁর প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা দিন দিন বাড়ছে।
মোস্তাকিম জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুককে কাজে লাগিয়ে তিনি প্রতিদিন নতুন নতুন ক্রেতার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরের মানুষ ঘরে বসেই তাঁর পেজ থেকে কেমিক্যালমুক্ত ও নিরাপদ আমের অর্ডার দিচ্ছেন। বিদেশে অবস্থানরত অনেক প্রবাসীও তাঁদের স্বজনদের জন্য তাঁর প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আম কিনে পাঠাচ্ছেন।
নিজের সফলতার গল্প তুলে ধরে এস এম মোস্তাকিম বলেন, “শুরুর দিকে অনলাইনে কৃষিপণ্য বিক্রি করা সহজ ছিল না। মানুষের আস্থা অর্জন করাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সব সময় ভালো মানের পণ্য, সততা এবং প্রতিশ্রুতি রক্ষা করায় ক্রেতাদের বিশ্বাস অর্জন করতে পেরেছি। বর্তমানে আগের তুলনায় অনেক বেশি অর্ডার পাচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, “আম খুব দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। তাই সময়মতো পণ্য পৌঁছানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অনেক সময় কুরিয়ার সার্ভিসের ধীরগতির কারণে কিছু সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। পরিবহন ও কুরিয়ার ব্যবস্থা আরও উন্নত হলে অনলাইনভিত্তিক কৃষিপণ্যের বাজার অনেক বড় পরিসরে সম্প্রসারণ করা সম্ভব।”
ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনে কঠিন সময় পার করছেন এই তরুণ উদ্যোক্তা। তাঁর সন্তান গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছে। এ অবস্থায় তিনি সবার কাছে তাঁর সন্তানের দ্রুত সুস্থতার জন্য আন্তরিক দোয়া কামনা করেছেন।
বদলগাছী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবাব ফারহান বলেন, “মোস্তাকিমের মতো শিক্ষিত তরুণেরা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষিপণ্য বাজারজাত করার উদ্যোগ নেওয়ায় কৃষকরা সরাসরি ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হচ্ছে। এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতে কৃষি অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।”
স্থানীয়রা মনে করছেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার এবং উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী চিন্তার ফলে বদলগাছীর আম এখন দেশের সীমানা পেরিয়ে আরও বৃহৎ বাজারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, উন্নত কুরিয়ার ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে মোস্তাকিমের মতো আরও অনেক তরুণ উদ্যোক্তা দেশের কৃষিপণ্যকে আন্তর্জাতিক বাজারে পরিচিত করে তুলতে সক্ষম হবেন।