মোখলেছুর রহমান ধনু
রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার তরুণ ফুটবলার সৌরভ আহমেদ ধীরে ধীরে নিজের প্রতিভা, পরিশ্রম ও শৃঙ্খলার মাধ্যমে দেশের ফুটবল অঙ্গনে সম্ভাবনাময় এক নাম হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছেন। তৃণমূল পর্যায় থেকে উঠে আসা এই ফুটবলার বর্তমানে ঢাকা ২য় বিভাগ ফুটবল লীগে নিয়মিত খেলছেন। পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী দিলকুশা স্পোর্টিং ক্লাবের (অনূর্ধ্ব-১৮) অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে মাঠে নেতৃত্বেরও দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন।
শৈশব থেকেই ফুটবলের প্রতি গভীর ভালোবাসা ছিল সৌরভের। গ্রামের মাঠে বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে খেলতেই ফুটবলের প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হয়। সেই আগ্রহকে পুঁজি করে নিয়মিত অনুশীলন, কঠোর পরিশ্রম এবং আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে ধাপে ধাপে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। স্থানীয় বিভিন্ন টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্সের পর বড় পরিসরে খেলার সুযোগ পান এবং বর্তমানে ঢাকা ২য় বিভাগ ফুটবল লীগে নিজের দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন।
সৌরভ রামগতি উপজেলার মজিবুল হক কন্ট্রাক্টর বাড়ির সন্তান। তিনি আবদুল বাছেত রাজু ও জোছনা বেগমের ছেলে। পরিবারের অনুপ্রেরণা এবং নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে পুঁজি করেই তিনি আজকের অবস্থানে পৌঁছেছেন। তার এই সাফল্যে শুধু পরিবার নয়, আনন্দিত রামগতি উপজেলার ক্রীড়াপ্রেমী মানুষ এবং লক্ষ্মীপুর জেলার ফুটবলপ্রেমীরাও।
মাঠে সৌরভের সবচেয়ে বড় শক্তি তার নেতৃত্বের গুণ। খেলোয়াড়দের সমন্বয়, দায়িত্বশীল আচরণ এবং প্রতিটি ম্যাচে সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স দেওয়ার মানসিকতার কারণে দিলকুশা স্পোর্টিং ক্লাব (অনূর্ধ্ব-১৮)-এর অধিনায়কের দায়িত্ব তার ওপর অর্পণ করা হয়েছে। সতীর্থদের উৎসাহিত করা এবং কঠিন মুহূর্তে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্যও তিনি প্রশংসিত।
স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠকরা মনে করেন, সঠিক পরিচর্যা ও প্রশিক্ষণ পেলে সৌরভ দেশের ফুটবলে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবেন। তার খেলার নৈপুণ্য ইতোমধ্যেই বিভিন্ন মহলের নজর কেড়েছে। দেশের ক্রীড়াঙ্গনেও তাকে নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা শুরু হয়েছে।
রামগতি উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দিদারুল ইসলাম খন্দকার বলেন, “সৌরভ অত্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী একজন ফুটবলার। আমরা বিশ্বাস করি, সে একদিন জাতীয় দলে জায়গা করে নেবে। আমরা সেই দিনের অপেক্ষায় আছি, যেদিন টেলিভিশনের পর্দায় বাংলাদেশের লাল-সবুজের জার্সি গায়ে তাকে খেলতে দেখে গর্ব করে বলতে পারব—সৌরভ আমাদের রামগতির ছেলে।”
নিজের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য সম্পর্কে সৌরভ আহমেদ বলেন, “আমার একমাত্র স্বপ্ন বাংলাদেশের জাতীয় ফুটবল দলে খেলা। লাল-সবুজের জার্সি গায়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে চাই। সেই লক্ষ্য নিয়েই প্রতিদিন কঠোর অনুশীলন করছি। আমি বিশ্বাস করি, পরিশ্রম করলে একদিন স্বপ্ন পূরণ হবে। এজন্য দেশবাসীর দোয়া ও ভালোবাসা চাই।”
স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের মতে, প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে আসা মেধাবী খেলোয়াড়দের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে দেশের ফুটবল আরও সমৃদ্ধ হবে। সৌরভের মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা ভবিষ্যতে জাতীয় দলের শক্তি হয়ে উঠতে পারেন।
রামগতির এই তরুণ ফুটবলারের সাফল্য ইতোমধ্যেই এলাকার অনেক কিশোর-তরুণকে ফুটবলের প্রতি আগ্রহী করে তুলেছে। তাদের বিশ্বাস, কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা ও আত্মবিশ্বাস থাকলে গ্রামের মাঠ থেকেও জাতীয় দলের পথ তৈরি করা সম্ভব।
স্বপ্ন, সংগ্রাম ও সাফল্যের পথে এগিয়ে চলা সৌরভ আহমেদ এখন শুধু রামগতির নয়, লক্ষ্মীপুর জেলার ফুটবলপ্রেমীদেরও আশা-ভরসার প্রতীক। লাল-সবুজের জার্সি গায়ে একদিন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন নিয়েই প্রতিদিন মাঠে ঘাম ঝরিয়ে চলেছেন এই উদীয়মান ফুটবলার।