মো. আখতার হোসেন হিরন, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে আন্তঃজেলা ছিনতাইকারী চক্রের সন্দেহভাজন ১১ নারীকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (৬ জুলাই) সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সলঙ্গা থানার পাঁচলিয়া বাজার ওভারব্রিজের পূর্ব পাশে আব্দুস সাত্তার সরকারের একটি ভাড়া বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, সম্প্রতি সলঙ্গাসহ আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন হাট-বাজার, বাসস্ট্যান্ড ও জনসমাগমস্থলে ছিনতাই ও চুরির অভিযোগ বাড়ছিল। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে সলঙ্গা থানা পুলিশ গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারে, পাঁচলিয়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় কয়েকজন নারী অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে।
সংবাদের সত্যতা যাচাই শেষে সলঙ্গা থানার একটি চৌকস দল ওই বাড়িতে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে ১১ জন নারীকে আটক করা সম্ভব হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—সুফিয়া খাতুন (৪০), খোদেনা আক্তার দিলারা (৩৫), হামিদা আক্তার মিনা (২৪), পারভীন (৩০), আনোয়ারা আক্তার বৃষ্টি, রোজিনা আক্তার সায়দা (৩০), শাহানা আক্তার বিউটি (৩৫), শেফা আক্তার (২১), জুয়ানা আক্তার তামান্না (৩০), রুবা আক্তার ঝুমা (২০) এবং সুবিনা আক্তার লাকী (২০)। পুলিশ জানিয়েছে, আটক নারীদের অধিকাংশের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার ধরমণ্ডল এলাকায়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক নারীরা আন্তঃজেলা ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য বলে স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, তারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় সংঘবদ্ধভাবে চলাচল করে সুযোগ বুঝে ছিনতাই ও চুরির মতো অপরাধে জড়িত থাকতেন। বিষয়টি আরও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং তাদের সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি বা চক্র জড়িত রয়েছে কি না, সে বিষয়েও অনুসন্ধান চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলাকায় অপরিচিত কিছু নারী কয়েকদিন ধরে একটি ভাড়া বাসায় অবস্থান করছিলেন। তাদের চলাফেরা ও আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় অনেকের মধ্যেই কৌতূহল তৈরি হয়েছিল। পরে পুলিশের অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আছলাম আলী বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে ১১ জন নারীকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা আন্তঃজেলা ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য বলে তথ্য দিয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “সলঙ্গা এলাকায় অপরাধ দমনে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। চুরি, ছিনতাই, মাদকসহ সব ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে।”
পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে জনসমাগমস্থলে সতর্ক থাকার পাশাপাশি সন্দেহজনক ব্যক্তি বা কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য দ্রুত নিকটস্থ থানায় জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, পুলিশের অভিযোগ বা দাবির ভিত্তিতে আটক হওয়া মানেই কোনো ব্যক্তি অপরাধী প্রমাণিত হন না। মামলার তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালতের রায়ের মাধ্যমেই অপরাধের বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে।