মোখলেছুর রহমান ধনু
রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার ভুলুয়া নদীর ওপর নির্মিত প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুর একাংশ ধসে পড়ায় সেটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর তত্ত্বাবধানে নির্মিত সেতুটি উদ্বোধনের মাত্র তিন বছরের মাথায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এর নির্মাণমান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৩০ হাজার মানুষের চলাচলের এই সড়কটি বর্তমানে চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর মূল পাটাতনের দক্ষিণ পাশের রেলিংঘেঁষা অংশের পিচ ও আরসিসি ঢালাই ধসে গিয়ে বড় আকারের গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। গর্তের নিচের মাটি ও সুরকি সরে যাওয়ায় ভেতরের অংশ ফাঁপা হয়ে পড়েছে, যা সেতুটিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
বর্তমানে মোটরসাইকেল, ইজিবাইক, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সেতুটি ব্যবহার করছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময় সামান্য অসাবধানতায় এখানে বড় ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে সেতুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কমলনগর উপজেলার চর কাদিরা ইউনিয়নের চর ঠিকা এলাকায় ভুলুয়া নদীর ওপর নির্মিত এই সেতু কমলনগরের সঙ্গে নোয়াখালী সদরের সোনাপুর এলাকার সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করেছে। প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন ও প্রায় ৩০ হাজার মানুষ এই সেতু ব্যবহার করে যাতায়াত করেন।
সেতুর পাশেই গড়ে তোলা হয়েছে ‘চরঠিকা স্মার্ট ভিলেজ’ নামে একটি আদর্শ নিরাপদ গ্রাম, যার উদ্বোধন করেছিলেন লক্ষ্মীপুরের সাবেক জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল। ওই প্রকল্পে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যমও এই সেতুটি। ফলে সেতুর বর্তমান বেহাল অবস্থা পুরো এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এ বিষয়ে কমলনগর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আব্দুল কাদের মোজাহিদ বলেন, “সেতুর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। সাধারণ মানুষের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
তবে স্থানীয়দের দাবি, কেবল আশ্বাস নয়, সম্ভাব্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।