শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি :
বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় খাল পুনঃখনন কাজ শুরু হলেও এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন খালপাড়ের প্রান্তিক কৃষকেরা। খনন কাজের কারণে কৃষকদের উৎপাদিত ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসল নষ্ট হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের ডাংগুরী খালপাড় এলাকার দুই পাশের কৃষিজমিতে। শুক্রবার (৮ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খাল খননের প্রস্তুতি চলছে। এসময় খালের দুই পাশের জমিতে চাষ করা ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা ও কিছু স্থানে ইতোমধ্যে ফসল নষ্ট হওয়ার চিত্র দেখা যায়।
এর আগে গত ৪ মে বিকেলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নে পরিচালিত এ খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন বগুড়া-৭ (শাজাহানপুর-গাবতলী) আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ মিলটন।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ফসল ঘরে তোলার ঠিক আগ মুহূর্তে খনন কাজ শুরু হওয়ায় তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
আড়িয়া ইউনিয়নের সোনাকানিয়া গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম (৫৫) জানান, খালের পাড়ে তার প্রায় দেড় বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করা হয়েছে। আর মাত্র কয়েকদিন পরই ফসল ঘরে তোলার কথা ছিল। কিন্তু খনন কাজ চলতে থাকলে জমির অনেকাংশের ফসল নষ্ট হয়ে যাবে। এতে তার প্রায় ৪০ হাজার টাকার ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
উপজেলার খরনা ইউনিয়নের গাড়িগাছা নতুনপাড়া গ্রামের কৃষক ইউনুস আলী (৩৫) বলেন, “আমি প্রায় এক বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছি। ফসল কাটার সময় এসে গেছে। এখন খাল খননের কারণে ভুট্টার গাছ কেটে ফেলতে হচ্ছে। এতে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকার ক্ষতি হবে।”
এছাড়াও আড়িয়া ইউনিয়নের বারআঞ্জুল দক্ষিণপাড়ার কৃষক আশরাফ আলী (৬৫), খরনা ইউনিয়নের গাড়িগাছা নতুনপাড়ার দরিদ্র কৃষক আবুল হোসেন প্রামাণিক (৫৫)সহ আরও বেশ কয়েকজন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী কৃষকেরা জানান, খাল পুনঃখননের কাজে তাদের কোনো আপত্তি নেই। বরং জলাবদ্ধতা নিরসন ও কৃষি সুবিধার জন্য এ ধরনের উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানান। তবে ফসল কাটার আগ মুহূর্তে কাজ শুরু করায় তাদের আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানান তারা। একইসঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতাও কামনা করেন।
এ বিষয়ে আড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান আতিক বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা চাওয়া হয়েছে। সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করা গেলে আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াব।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাইফুর রহমান বলেন, “খাল খনন কাজে কৃষকের ফসল ক্ষতির বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। সেখানে ফসল নষ্ট হওয়ার সুযোগ কম। তারপরও স্থানীয় চেয়ারম্যানদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে।”