আশরাফুল ইসলাম রনজু, তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি:
রাজশাহীর তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কক্ষে মৃত এক গৃহবধূর কানের সোনার রিং খুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের এক মালির বিরুদ্ধে। হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত মালি রায়হান আলী পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তানোর উপজেলার তালন্দ ইউনিয়নের সুখদেবপুর গ্রামের মনোয়ার হোসেনের স্ত্রী ও তিন সন্তানের জননী লিপি বেগম (৪২) অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বজনরা তাকে অটোরিকশাযোগে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
অভিযোগ অনুযায়ী, মৃত্যুর পর জরুরি বিভাগের বেডে থাকা অবস্থায় হাসপাতালের মালি রায়হান আলী ওই গৃহবধূর কানের সোনার রিং খুলে নেন। পরে লাশ বাড়িতে নেওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা গহনা না পেয়ে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং স্বজনদের মাধ্যমে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন।
রাতেই নিহতের স্বজনরা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকদের বিষয়টি জানান এবং মালি রায়হান আলীর বিরুদ্ধে সন্দেহ প্রকাশ করেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত মালি হাসপাতালে অনুপস্থিত রয়েছেন। বুধবার সকালে লিপি বেগমের দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর স্বজনরা হাসপাতালে এসে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করেন। ফুটেজে রায়হান আলীকে মৃত গৃহবধূর কানের রিং খুলে নিতে দেখা যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই মিঠুন বাদী হয়ে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. জোবাইদা রহমান বলেন, “রোগীর অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। আমরা চিকিৎসা দিচ্ছিলাম এবং রোগী মৃত্যুবরণ করার পর প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে ব্যস্ত ছিলাম। সেই সুযোগে মালি রায়হান আলী কানের রিং খুলে নেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সিসিটিভি ফুটেজেও বিষয়টি দেখা গেছে। তিনি স্থানীয় পরিচয় দিয়ে জোরপূর্বক জরুরি বিভাগে প্রবেশ করেছিলেন।”
তিনি আরও জানান, রাতেই গহনা হারানোর বিষয়টি জানতে পারেন এবং এরপর থেকে অভিযুক্ত মালি হাসপাতালে আর আসেননি।
অভিযুক্ত মালি রায়হান আলীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে অভিযোগ অস্বীকার করেন। পরে সিসিটিভি ফুটেজের বিষয়ে জানানো হলে তিনি দাবি করেন, মৃত নারীর কানের রিং খুলে তিনি একজন মহিলার হাতে তুলে দিয়েছেন। তবে ওই মহিলার পরিচয় জানাতে পারেননি।
তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বারনাবাস হাসদাক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্ত মালি রায়হান আলীকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।”