নিজস্ব প্রতিবেদক, নেত্রকোনা :
নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় ১৩ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ২৯ জুন (সোমবার) সন্ধ্যায় উপজেলার বাট্টা (ভাটিপাড়া) এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে বুধবার (১ জুলাই) কেন্দুয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তের নাম মো. মতি মিয়া (৫৫)। তিনি ওই এলাকার মৃত মন্নাফ হোসেনের ছেলে।
ঘটনার বিবরণ
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার বিকেলে ভুক্তভোগী কিশোরী মোজাফফরপুর ইউনিয়নের গগডা গ্রাম থেকে তার দুলাভাইয়ের বাড়ি চিরাং ইউনিয়নের বাট্টা মাইজপাড়া গ্রামে যাচ্ছিল। পথে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাট্টা (ভাটিপাড়া) এলাকায় পৌঁছালে ওত পেতে থাকা মতি মিয়া কিশোরীটির মুখ চেপে ধরে পার্শ্ববর্তী একটি পাটক্ষেতে নিয়ে যায়। সেখানে সে ওই কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ ওঠে।
সালিশি বৈঠকের চেষ্টা ও ক্ষোভ
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ও স্থানীয়ভাবে আপস-মীমাংসার জন্য জোর তৎপরতা চালায়। আইনি প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করার চেষ্টায় এলাকায় সচেতন মহলের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করে। স্থানীয়দের দাবি, ধর্ষণের মতো জঘন্য ফৌজদারি অপরাধ কোনোভাবেই স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে মীমাংসাযোগ্য নয়।
আইনি পদক্ষেপ
সব ভয়ভীতি উপেক্ষা করে ভুক্তভোগীর বাবা বুধবার কেন্দুয়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন। এ ব্যাপারে মামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম।
ওসি জানান, “ভুক্তভোগীর বাবার দায়ের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভিকটিমকে আইনি সুরক্ষা ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।”
ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।