আবরার থেকে মুগ্ধ – যে বাংলাদেশ তারা দেখতে চেয়েছিল, সেই পথেই হাঁটছে এনসিপি : নাহিদ ইসলাম
রাশেদুজ্জামান রিমন, কুষ্টিয়া
শহীদ আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারতের মাধ্যমে কুষ্টিয়ায় শুরু হয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’। সোমবার (৮ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার রায়ডাঙা গ্রামে আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
এসময় জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, “এই কুষ্টিয়ার সন্তান শহীদ আবরার ফাহাদ গোলামির বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর প্রতীক। ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে যে সংগ্রাম আবরার শুরু করেছিলেন, আজ তা সারাদেশে ছড়িয়ে গেছে। আমরা সেই পথেই হাঁটছি—গোলামী নয়, আমাদের লক্ষ্য আজাদী।”
তিনি আরও বলেন, “আবরার ফাহাদের মতোই শহীদ ইয়ামিন ও আবু সাঈদ মুগ্ধরা দেখিয়েছেন, কোন বাংলাদেশ আমরা চাই। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্যই এই পদযাত্রা।”
জিয়ারতের সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়কারী নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী, উত্তর অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, কেন্দ্রীয় নেত্রী নুসরাত তাবাচ্ছুম, ডাক্তার তাসনিম জারা, শহীদ আবরার ফাহাদের বাবা বরকতউল্লাহ, মা রোকেয়া খাতুনসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
প্রাথমিকভাবে সকাল ৯টায় কর্মসূচি শুরুর কথা থাকলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে কিছুটা দেরি হয়। তবে দুপুরের পর শত শত মানুষ বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে এই পদযাত্রায় অংশ নেন।
কুষ্টিয়া শহরের বড় বাজার থেকে পদযাত্রা শুরু করে শহরের ৫ রাস্তার মোড়ে এসে এক সংক্ষিপ্ত পথসভায় মিলিত হয়। এসময় নাহিদ ইসলাম বলেন, “আবরারের মৃত্যু শুধুই একটি হত্যাকাণ্ড ছিল না, এটি ছিল একটি রাজনৈতিক মোড় পরিবর্তনের সূচনা। গোলামী না আজাদী.? আজাদী আজাদী স্লোগানে মুখরবত হয়ে উঠে কুষ্টিয়া শহর—এই স্লোগান থেকেই বুঝা যায়, কতটা গভীর ছিল সেই প্রতিবাদ।”
তিনি আরও বলেন, “আজকে যারা আবার নতুন করে আধিপত্যবাদী রাজনীতির পক্ষ নিচ্ছে, আমরা তাদের বিরুদ্ধেও দাঁড়াবো। জনগণও তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। আমাদের কথা পরিষ্কার—আমরা মাথা উঁচু করে বাঁচতে চাই, স্বাধীন মর্যাদার বাংলাদেশ গড়তে চাই।”
পথসভা শেষে পদযাত্রাটি মেহেরপুর জেলার দিকে রওনা হয়। এর আগে সকালে কুষ্টিয়া শহরের দিশা টাওয়ারে জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, ১ জুলাই রংপুর থেকে শুরু হওয়া এই ‘জুলাই পদযাত্রা’ দেশের বিভিন্ন শহর ও জনপদ অতিক্রম করে মেহেরপুরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।








