ফিরোজ আল আমিন
নিজস্ব প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ-তাড়াশ-সলঙ্গা তথা চলনবিল অঞ্চলের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রস্তাবিত “চলনবিল সমন্বিত ইকো-ট্যুরিজম, আধুনিক বিনোদন নগরী ও শিশু ওয়াটার পার্ক উন্নয়ন প্রকল্প” বাস্তবায়নের উদ্যোগ নতুন গতি পেয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
দেশের বৃহত্তম বিলাঞ্চল চলনবিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, জীববৈচিত্র্য ও পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক মানের একটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এ প্রকল্পের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ এবং পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
জানা গেছে, সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ-সলঙ্গা) আসনের সংসদ সদস্য ভিপি আয়নুল হকের প্রত্যক্ষ নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ প্রজেক্ট প্রোফাইল ও কনসেপ্ট পেপার প্রস্তুত করা হয়েছে। তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মাহবুব আলম শেখ চলনবিলের ভৌগোলিক অবস্থান, প্রাকৃতিক পরিবেশ, পর্যটন সম্ভাবনা, অর্থনৈতিক প্রভাব, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং স্থানীয় জনগণের জীবন-জীবিকার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বিস্তারিত প্রকল্প প্রোফাইল প্রণয়ন করেন, যা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে উপস্থাপন করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় পরিবেশবান্ধব ইকো-রিসোর্ট, আন্তর্জাতিক মানের মোটেল, শিশু ওয়াটার পার্ক, কেবল কার, নৌ-পর্যটন কেন্দ্র, বার্ড ওয়াচিং টাওয়ার, ভাসমান রেস্টুরেন্ট, ফুড কোর্ট, সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স, পর্যটন পুলিশ ফাঁড়ি, আধুনিক পার্কিং ব্যবস্থা, পরিবারভিত্তিক বিনোদন কেন্দ্রসহ বিশ্বমানের পর্যটন অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চলনবিলকে ঘিরে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটবে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। স্থানীয় কৃষি, মৎস্য, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, কুটিরশিল্প, পরিবহন, হোটেল-রেস্টুরেন্ট এবং সেবাখাতের ব্যাপক প্রসার ঘটবে। একই সঙ্গে নারী উদ্যোক্তা ও যুবসমাজের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দের মতে, নির্বাচনের আগে ভিপি আয়নুল হক যে উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, আধুনিক অবকাঠামো এবং প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট সংসদীয় এলাকা গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছিলেন, এই প্রকল্প তারই অন্যতম বাস্তবায়ন। শিক্ষা, কৃষি, যোগাযোগ ও পর্যটনসহ বিভিন্ন খাতে চলমান উন্নয়ন পরিকল্পনার মধ্যে এই প্রকল্পকে তিনি সর্বাধিক অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য ভিপি আয়নুল হক বলেন, “চলনবিল শুধু একটি জলাভূমি নয়; এটি উত্তরবঙ্গের মানুষের জীবন, সংস্কৃতি ও সম্ভাবনার প্রতীক। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করেই আমরা এটিকে আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে স্থান দিতে চাই। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, পর্যটন এবং আঞ্চলিক উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।”
প্রকল্পটির প্রোফাইল প্রণয়নকারী মাহবুব আলম শেখ বলেন, “মাননীয় সংসদ সদস্যের দিকনির্দেশনায় চলনবিলের বাস্তব সম্ভাবনা, অর্থনৈতিক গুরুত্ব এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা বিবেচনায় রেখে প্রকল্পটির প্রোফাইল প্রস্তুত করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে ভূমিকা রাখবে।”
স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশা, সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তর দ্রুত প্রকল্পটি অনুমোদন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে। তাদের বিশ্বাস, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে চলনবিল আন্তর্জাতিক মানের ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে এবং উত্তরবঙ্গের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের নতুন ইতিহাস রচিত হবে।