প্রভাষক গিয়াস উদ্দিন সরদার, বিশেষ প্রতিনিধি:
পাবনার চাটমোহর উপজেলার পার্শ্বডাঙ্গা মহিউল উলুম দাখিল মাদ্রাসায় নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও জাতীয় পতাকা উত্তোলিত অবস্থায় থাকার ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) দিবাগত রাতেও মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলিত অবস্থায় দেখা যায়। জাতীয় পতাকা ব্যবহারের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী সূর্যাস্তের আগে পতাকা নামানোর কথা থাকলেও তা না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটিতে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশাসনিক শৃঙ্খলা, শিক্ষার মান এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। তাদের দাবি, সর্বশেষ দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৬ জন পরীক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এছাড়া নিয়মিত পাঠদান ও একাডেমিক পরিবেশ নিয়েও অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদ্রাসার সুপার মকবুল হোসেন মুকুল বলেন, “আমি বিকেল ৪টা ৫ মিনিটের দিকে প্রতিষ্ঠান থেকে বের হয়ে যাই। এরপর যারা দায়িত্বে ছিল, পিয়ন বা অন্য কর্মচারীরা হয়তো জাতীয় পতাকা নামাতে ভুলে গেছে। অসচেতনতা বা অনিচ্ছাকৃত ভুলের কারণেই এমনটি হয়ে থাকতে পারে।”
চাটমোহর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিউর ইসলাম বলেন, “জাতীয় পতাকা নির্ধারিত সময়ের বাইরে উত্তোলিত রাখা বিধিবহির্ভূত। বিষয়টি মোটেও গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি দায়িত্বে অবহেলার শামিল। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় এলাকায় নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, শুধু জাতীয় পতাকা ব্যবস্থাপনায় গাফিলতির বিষয়টি নয়, প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনাও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।
সচেতন মহলের মতে, জাতীয় পতাকা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় মর্যাদার প্রতীক। তাই জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও অবতোলনের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন ও বিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করা প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব।