মো. হোসেন, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে ঘেরা চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড যেন এক অনন্য পর্যটনভূমি। একদিকে সবুজ পাহাড়, অন্যদিকে বিস্তীর্ণ বঙ্গোপসাগর—দুইয়ের মেলবন্ধনে গড়ে উঠেছে অসাধারণ প্রাকৃতিক পরিবেশ। আর এই সৌন্দর্যের অন্যতম আকর্ষণ বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত, যা বর্তমানে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
সীতাকুণ্ড উপজেলা সদর থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার দক্ষিণে এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বাঁশবাড়িয়া বাজার থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত এই সৈকত। বাজার থেকে অল্প সময়েই সিএনজিচালিত অটোরিকশায় পৌঁছে যাওয়া যায় প্রকৃতির এই শান্ত নিবাসে।
বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকতের বিশেষত্ব হলো এর নির্মল পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। বিস্তীর্ণ বালুচর, সারি সারি ঝাউগাছ, সবুজ ঘাসে মোড়ানো উন্মুক্ত প্রান্তর এবং সাগরের অবিরাম ঢেউ এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। তাই পরিবার, বন্ধু কিংবা সহকর্মীদের নিয়ে অবকাশযাপন, পিকনিক কিংবা একদিনের ভ্রমণের জন্য এটি এখন অন্যতম পছন্দের গন্তব্য।
বিকেলের শেষ আলো যখন ধীরে ধীরে বঙ্গোপসাগরের বুকে মিলিয়ে যায়, তখন সূর্যাস্তের অপূর্ব দৃশ্য সৈকতের সৌন্দর্যকে বহুগুণ বাড়িয়ে তোলে। লাল আভায় রাঙা আকাশ আর সাগরের ঢেউয়ের ছন্দ দর্শনার্থীদের মনে এনে দেয় এক অনাবিল প্রশান্তি। প্রতিদিন বিকেলে অসংখ্য মানুষ শুধু এই সূর্যাস্তের সৌন্দর্য উপভোগ করতেই ভিড় করেন বাঁশবাড়িয়া সৈকতে।
সন্দ্বীপ ফেরি সার্ভিস চালু হওয়ার পর এই সৈকতের পর্যটন সম্ভাবনা আরও প্রসারিত হয়েছে। ফেরিঘাটকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন বাড়ছে দর্শনার্থীর সংখ্যা। বিশেষ করে ছুটির দিন ও সরকারি অবকাশে সৈকতজুড়ে থাকে উৎসবমুখর পরিবেশ।
শীতকালে এ অঞ্চলের আরেকটি বিশেষ আকর্ষণ খেজুরের টাটকা রস। ভোরের নির্মল পরিবেশে সৈকতের পাশেই গাছ থেকে নামানো খেজুরের রস পান করার অভিজ্ঞতা ভ্রমণকে করে তোলে আরও স্মরণীয়।
যেভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী যেকোনো বাসে সীতাকুণ্ড অথবা বাঁশবাড়িয়া বাজারে নামা যায়। সীতাকুণ্ড থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ২০০–২৫০ টাকায় এবং বাঁশবাড়িয়া বাজার থেকে প্রায় ১০০ টাকায় রিজার্ভ সিএনজিতে সৈকতে পৌঁছানো সম্ভব। চট্টগ্রাম শহর থেকেও সহজেই বাঁশবাড়িয়া বাজার হয়ে সৈকতে যাওয়া যায়।
আশপাশে ঘুরে দেখার সুযোগ
বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকতের পাশাপাশি সীতাকুণ্ডে রয়েছে গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত, বড় কুমিরা সমুদ্র সৈকত, বাড়বকুণ্ড সমুদ্র সৈকত, সীতাকুণ্ড ইকোপার্ক, ভাটিয়ারী লেক, ছোট দারোগাহাট লেক, চন্দ্রনাথ পাহাড়, নড়ালিয়া সমুদ্র সৈকতসহ অসংখ্য দর্শনীয় স্থান। পাহাড়, সমুদ্র, ঝরনা ও লেকের অপূর্ব সমন্বয় সীতাকুণ্ডকে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত করেছে।
প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে সবসময় দেশের বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। বাংলাদেশের বুকেই রয়েছে এমন অসংখ্য মনোমুগ্ধকর গন্তব্য, যার অন্যতম বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত। তাই অবসরের একদিন পরিবার বা প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন এই সৈকত থেকে। প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটানো কিছু মুহূর্তই হয়ে উঠতে পারে আপনার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর স্মৃতিগুলোর একটি।