বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫২ অপরাহ্ন
শিরোনাম
খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে সিন্দুকছড়ি জোন আয়োজনে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও মেডিকেল চক্ষু ক্যাম্পেইন  তাড়াশে ধান ক্ষেত থেকে এক ব্যক্তির রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার গোপালগঞ্জে টেকনিক্যাল শিক্ষার্থীদের জন্য চাকরি মেলা ও সেমিনার প্রতিপক্ষের হামলায় বসতঘর হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস,মামলা করে নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার টুঙ্গিপাড়া প্রেস ক্লাবের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন, সভাপতি আফজাল ও সম্পাদক মুকুল রামগতি- কমলনগরে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা: মেঘনা পাড়ের ‘জলকন্যাদের’ ঘরে নেই চুলার আগুন ধামইরহাটে হজ যাত্রা  উপলক্ষে দোয়া ও বিদায় অনুষ্ঠিত ভাঙ্গুড়ায় এমআর টিকাদান ক্যাম্পেইন উপলক্ষে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত শাজাহানপুরে মানিকদিপা দ্বিঃমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও দোয়া অনুষ্ঠান  গোপালগঞ্জে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন সফল করতে জেলা এ্যাডভোকেসী সভা অনুষ্ঠিত

হারিয়ে যাওয়া সুরের স্মৃতি: রামগতি-কমলনগরে ফিলিপস রেডিওর সোনালী দিনের গল্প

Reporter Name / ২০ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬

 

মোখলেছুর রহমান ধনু

রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি:

প্রযুক্তি ও ইন্টারনেটের এই আধুনিক যুগে যখন স্মার্টফোন মানুষের নিত্যসঙ্গী, তখন এক সময় বাংলার গ্রামীণ জনপদে তথ্য ও বিনোদনের একমাত্র নির্ভরযোগ্য মাধ্যম ছিল ছোট্ট একটি যন্ত্র—ফিলিপস রেডিও। সময়ের বিবর্তনে আজ তা প্রায় বিলুপ্তির পথে, তবে লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগরের মানুষের স্মৃতিতে এর আবেদন এখনো অমলিন।

একসময় উপকূলীয় রামগতি ও কমলনগরে মানুষের খবর জানার প্রধান মাধ্যম ছিল এই রেডিও। মেঘনা নদী কিংবা সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের কাছে আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাওয়ার একমাত্র ভরসা ছিল এটি। পাশাপাশি ছায়াছবির গান, আজান কিংবা সময় জানার জন্যও মানুষ নির্ভর করত রেডিওর ওপর।

রামগতির বিবিরহাট এলাকার বাসিন্দা আবুল খায়ের জানান,“সংবাদ শোনার প্রতি প্রবল আগ্রহ ছিল। বাবার একটি গরু বিক্রি করে সেই টাকা দিয়ে শখের রেডিওটি কিনেছিলাম।”

অন্যদিকে কমলনগরের ফজুমিয়ারহাট বাজারের ব্যবসায়ী আবুল কাশেম মিয়া এখনো সেই পুরনো অভ্যাস ধরে রেখেছেন। তিনি নিয়মিত বিবিসি ও ভয়েস অব আমেরিকার সংবাদ শোনেন।

একসময় গ্রামীণ সমাজে ফিলিপস রেডিও ছিল মর্যাদা ও আভিজাত্যের প্রতীক। বিয়ের সময় নতুন জামাইয়ের হাতে একটি রেডিও থাকা ছিল গর্বের বিষয়। অনেক শৌখিন যুবক কষ্ট করে হলেও এটি সংগ্রহ করতেন।

কৃষিকাজের ফাঁকে কিংবা মেঠোপথে চলার সময় রেডিওর সুরই ছিল মানুষের বিনোদনের সঙ্গী। দোকানের সামনে বা বাড়ির উঠোনে রেডিওকে ঘিরে জমে উঠত আড্ডা—সংবাদ, গান আর গল্পে মুখর থাকত পুরো এলাকা।

ডাচ উদ্যোক্তা এন্টনি ফিলিপসের হাত ধরে ১৯৩১ সালে যাত্রা শুরু করা এই ব্র্যান্ডটি বাংলাদেশে বিশেষভাবে জনপ্রিয়তা পায় সত্তরের দশকে। ১৯৭৫ সালের পর এক ব্যান্ডের ফিলিপস রেডিওর দাম ছিল প্রায় ২৪০ টাকা।

বর্তমান প্রজন্মের কাছে রেডিও হয়তো শুধু একটি অ্যান্টিক বস্তু। কিন্তু প্রবীণদের কাছে এটি ছিল জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ—সংবাদ, বিনোদন এবং মানসিক প্রশান্তির একমাত্র মাধ্যম।

প্রযুক্তির অগ্রগতিতে সেই সোনালী দিনগুলো আজ হারিয়ে গেলেও ফিলিপস রেডিওর নস্টালজিয়া এখনো বেঁচে আছে রামগতি-কমলনগরের মানুষের হৃদয়ে। একটি সরল ও সুন্দর জীবনের নীরব সাক্ষী হয়ে এই রেডিও চিরকাল জায়গা করে নেবে ইতিহাসের পাতায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর