রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
পিআরও হিসেবে সাংবাদিক নিয়োগের প্রস্তাব সচিবালয়ে জমা   আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় তিন ভাই গ্রেপ্তার  লংগদু নানিয়ারচর সংযোগ সড়ক কাজে আবারো বাঁধা, দুটি ড্রজার অকেজো করে দিয়েছে সন্ত্রাসী চক্র”, নিরাপত্তা চায় কর্তৃপক্ষ অভয়নগরে বন উজাড় করে কয়লা সাম্রাজ্য, আংশিক অভিযানে ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী কুষ্টিয়ায় সুলভ মূল্যে মাংস বিক্রয় রামগড়ে দুই হোটেল মালিককে ভ্রাম্যমান আদালতে জরিমানা গাইবান্ধার নারীর কণ্ঠস্বর জাতীয় সংসদে? তৃণমূলের প্রত্যাশা ফরিদা ইয়াসমিন শোভা  পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে লংগদু জোনের উদ্যোগে ইফতার সামগ্রী বিতরণ উল্লাপাড়া-সলঙ্গায় মাঠে কৃষকদের কর্মচাঞ্চল্য ঘুষের টেবিলে বন্দি অভয়নগর ভূমি অফিস,নামজারি থেকে খাসজমি বন্দোবস্ত—টাকা ছাড়া নড়ে না ফাইল, দালাল-কর্মকর্তার যোগসাজশে সাধারণ মানুষ জিম্মি

অভয়নগরে বন উজাড় করে কয়লা সাম্রাজ্য, আংশিক অভিযানে ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী

Reporter Name / ২০ Time View
Update : রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

 

মোঃ কামাল হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি:

যশোরের অভয়নগর উপজেলার সিদ্দিপাশা ইউনিয়নের সোনাতলাসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরির চুল্লী গড়ে তুলে পরিবেশ ধ্বংসের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ২০০টির মতো অবৈধ চুল্লী স্থাপন করে নির্বিচারে কাঠ পুড়িয়ে বন উজাড় করা হচ্ছে, যার ফলে পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে এবং বাড়ছে শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগব্যাধি।

নাটকীয় অভিযান, কিন্তু প্রশ্নের শেষ কোথায়?

গত ১২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে পরিবেশ অধিদপ্তর খুলনার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মমতাজ বেগমের নেতৃত্বে পরিচালিত এক অভিযানে ২০০টি চুল্লীর মধ্যে ৭৪টি ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়। তবে বাকি চুল্লীগুলো রহস্যজনকভাবে অক্ষত থেকে যায়। এতে ক্ষোভ ও প্রশ্নের ঝড় উঠেছে এলাকায়।

যেসব মালিকের চুল্লী ধ্বংস করা হয়েছে, তারা অভিযোগ করে বলেন, আইন যদি সবার জন্য সমান হয়, তবে আমাদেরটাই কেন ভাঙা হলো? বাকিগুলো কেন বহাল তবিয়তে রইলো? তারা দাবি জানান, সকল অবৈধ চুল্লী একযোগে ধ্বংস করতে হবে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, এসব চুল্লী পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে নিয়মিত মাসিক মাসোহারা দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় কিছু অসাধু রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি, পুলিশের কিছু সদস্য এবং কথিত সাংবাদিকদের যোগসাজশেই দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কারবার টিকে আছে। যদিও সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। চুল্লী মালিকদের কেউ কেউ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ঘাটে ঘাটে টাকা দিয়েই ব্যবসা চালাতে হয়। না দিলে টিকেই থাকা যায় না। এলাকাবাসী জানান, দিনরাত ধোঁয়ার কারণে শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, চোখ জ্বালাপোড়া, কাশি এবং ত্বকের সমস্যার প্রকোপ বেড়েছে। কৃষিজমিতেও ছাই পড়ায় উৎপাদন কমে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

পরিবেশবাদীরা বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে জলবায়ু ও মাটির উর্বরতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অভিযানের পর বাকি চুল্লীগুলো কেন ভাঙা হয়নি, এ প্রশ্নে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসীর ভাষ্য, “নাকের ডগায় এমন ভয়ংকর কারবার চললেও অজানা ক্ষমতার প্রভাবে সবকিছু থেমে যায়।

স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, অবশিষ্ট সব অবৈধ চুল্লী অবিলম্বে ধ্বংস করতে হবে,জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে

বন উজাড় বন্ধে কঠোর নজরদারি জোরদার করতে হবে, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য স্বাস্থ্য সহায়তা ও পরিবেশ পুনরুদ্ধার কর্মসূচি নিতে হবে, আইন সবার জন্য সমান, এই নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে অভয়নগরের পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসন কতটা আন্তরিক, এখন সেটিই দেখার বিষয়। এবিষয়ে যশোর পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালকের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর