শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:
স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি বগুড়ার শেরপুর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের শালফা দক্ষিণপাড়া মহল্লায়। দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে সেখানে কোনো চলাচলের সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় বাঁশের সাঁকো ও জলকাদাই হয়ে উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিত্যদিনের বাস্তবতা। বছরের প্রায় আট মাস মহল্লায় প্রবেশের প্রধান পথটি পানিতে তলিয়ে থাকায় ২৬টি পরিবারের অন্তত ২০০ মানুষকে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো পার হয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কচুরিপানায় ভরা নিচু জলাভূমির ওপর নির্মিত একটি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোই এলাকাবাসীর চলাচলের একমাত্র ভরসা। বর্ষা কিংবা সামান্য বৃষ্টিতেই সাঁকোটি পিচ্ছিল ও বিপজ্জনক হয়ে পড়ে। শিশু, প্রবীণ, অসুস্থ ব্যক্তি ও গর্ভবতী নারীদের এ পথ দিয়ে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সাঁকো পার হওয়ার সময় পানিতে বিষধর সাপের আতঙ্কও থাকে।
স্থানীয় বাসিন্দা স্বর ভানুসহ একাধিক নারী জানান, বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে বাঁশের সাঁকো থেকে পা পিছলে শিশুরা প্রায়ই পানিতে পড়ে যায়। অনেক সময় ভেজা পোশাক নিয়েই তাদের বাড়ি ফিরতে হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্বাচন এলেই রাস্তা নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু নির্বাচন শেষ হলে সেই প্রতিশ্রুতির আর বাস্তবায়ন দেখা যায় না। তাই ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বলেন, “ভোট আসে, প্রতিশ্রুতি যায়; সাঁকো বদলায় না।”
স্থানীয়রা জানান, কৃষিনির্ভর এ এলাকার উৎপাদিত ধান ও অন্যান্য ফসল বাড়িতে নেওয়া কিংবা বাজারে বিক্রির জন্য পরিবহনে বাড়তি অর্থ ও শ্রম ব্যয় করতে হয়। জরুরি প্রয়োজনে রোগী নিয়ে যাতায়াতও অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়ে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুস সামাদ বলেন, “আমি কয়েকবার ইউনিয়ন পরিষদে বিষয়টি উত্থাপন করেছি এবং রাস্তা নির্মাণের জন্য লিখিত প্রস্তাব দিয়েছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো বরাদ্দ বা অনুমোদন মেলেনি।”
খানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পিয়ার উদ্দিন দুর্ভোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “সমস্যাটি অত্যন্ত গুরুতর। আগামী উপজেলা সমন্বয় কমিটির সভায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে।”
শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি আগে অবগত ছিলাম না। দ্রুতই এলাকাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করব এবং স্থানীয় মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগ লাঘবে প্রয়োজনীয় সড়ক নির্মাণের পদক্ষেপ নেব।”
দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে দ্রুত মুক্তি পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ চান শালফা দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দারা। তাদের প্রত্যাশা, এবার যেন প্রতিশ্রুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবে নির্মিত হয় একটি টেকসই সড়ক—আর বাঁশের সাঁকো না হয় তাদের একমাত্র ভরসা।