শতবর্ষী মায়ের আর্তনাদ,সন্তানের নির্যাতনে স্বামীর ভিটাতেও ঠাঁই নেই
কাগজ ডেক্স:
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার দুর্গানগর ইউনিয়নের রাউতান গ্রামে শতবর্ষী দেলজান বেওয়ার (১০০) জীবনের শেষ সময়ে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। বয়সের ভার ও নানা শারীরিক জটিলতায় নুয়ে পড়া এই বৃদ্ধা নিজ স্বামীর রেখে যাওয়া ভিটেমাটিতেও শান্তিতে বসবাস করতে পারছেন না। অভিযোগ উঠেছে, তারই সন্তান ও পরিবারের সদস্যদের নির্যাতনে তিনি মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩৫ বছর আগে দেলজান বেওয়ার স্বামী ময়নাল খদগীর ৫ বিঘা ফসলি জমি ও বসতভিটা রেখে মারা যান। বর্তমানে তার ৫ ছেলে ও ৪ মেয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হলেও কেউই তার ভরণপোষণ কিংবা চিকিৎসার দায়িত্ব নিচ্ছেন না। বরং বৃদ্ধার অভিযোগ, গত বছর প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর সহায়তায় স্বামীর ভিটায় ৪ শতক জমিতে থাকার ব্যবস্থা হলেও সেখানে বসবাস করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন তিনি।
দেলজান বেওয়া অভিযোগ করে বলেন, “ঘর তোলার পর থেকেই ছেলে, পুত্রবধূ ও নাতিরা আমাকে সেখানে থাকতে দিচ্ছে না। টিউবওয়েল ও ল্যাট্রিন ব্যবহার করতেও বাধা দেয়। প্রায়ই মারধর করে এবং ভিটা থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।”
ভুক্তভোগীর মেয়ে সীমা জানান, তার ভাইবোনেরা মিলে মায়ের দেখভাল না করে উল্টো সম্পত্তি নিজেদের নামে লিখে নেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছে। তিনি অভিযোগ করেন, ভাতিজা এলিট ও তার মা শরিফুন খাতুন নিয়মিত দেলজান বেওয়ার ওপর নির্যাতন চালান।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তরা। নাতি এলিট দাবি করেন, “দাদি ও ছোট ফুফু প্রায়ই প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেন, এগুলো সত্য নয়।” অন্যদিকে ছেলে ছানোয়ার হোসেন বলেন, “জমি বিক্রি নিয়ে কিছু পারিবারিক বিরোধ রয়েছে, তবে নির্যাতনের অভিযোগ সঠিক নয়।”
এ বিষয়ে স্থানীয় গ্রামপ্রধান আব্দুল হান্নান জানান, ঘটনাটি নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও পরিবারের সদস্যরা কোনো সিদ্ধান্ত মেনে নিচ্ছেন না।
এদিকে শতবর্ষী এই বৃদ্ধার দুর্দশা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।
জীবনের শেষ প্রান্তে এসে দেলজান বেওয়া এখন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আকুতি জানিয়েছেন—অন্তত শেষ দিনগুলো যেন শান্তিতে কাটাতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজন আইনি সুরক্ষা ও যথাযথ সহযোগিতা।








